কাশ্মীর ও মুসলিম বিরোধী আইনের ফলে ভারতে গণতন্ত্র বিপন্ন: ইকোনমিস্ট গ্রপের জরিপ

0
32

জানুয়ারি ২৩, ২০২০ আন্তর্জাতিক ডেস্ক


ব্যাপক হারে নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে ভারতে। দেশটিতে গণতন্ত্রও বিপন্ন। মূলত এই দুটি কারণের জন্য আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র সারণি, বা ডেমোক্রেসি ইনডেক্স–এ ১০ ধাপ নেমে গিয়ে ৫১ নম্বরে পৌঁছেছে ভারত।

২০০৬ সাল থেকে লন্ডনের বিখ্যাত ইকোনমিস্ট গ্রুপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে প্রতি বছর এই আন্তর্জাতিক তালিকা প্রকাশ করতে শুরু করেছে । ভারত এত খারাপ অবস্থায় এর আগে কখনও পৌঁছায়নি।

প্রতি বছর ১৬৫টি স্বাধীন দেশ ও দুটি অঞ্চলে গণতন্ত্রের হালহকিকত নিয়ে সমীক্ষা করে ইকোনমিস্ট গ্রুপ–এর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। তার তথ্য–পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি হয় ওই ডেমোক্র্যাসি ইনডেক্স।

২০১৯ সালে ভারতে সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছে যে দুটি বিষয় নিয়ে, স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা রদ করে অবৈধভাবে দখল ও এনআরসি–‌র কথা উল্লেখ করা হয়েছে ইনডেক্সে। বলা হয়েছে, ভারত সরকারের ওই দুটি পদক্ষেপের ফলে সে দেশে গণতন্ত্রের পরিসর সঙ্কুচিত হয়েছে।

ভারতীয় সংবিধানের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় কাশ্মীরকে বিশেষ অধিকার দেওয়া হয়েছিল। সরকার কাশ্মীরের সেই অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫–এ ধারা লোপ করে ভারতের সংসদে অবৈধভাবে কাশ্মীরকে দখল করা হয়েছে। ৩৭০ ধারা রদ করার আগে স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরে বড় সংখ্যক ভারতীয় সেনা মোতায়েন করে দেশটির উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। স্থানীয় নেতাদের মাসের পর মাস কারাগারের অন্ধকূপে নিক্ষেপ করে। কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী যুবকদের গুলি করে হত্যাসহ পুরো কাশ্মীর জুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট।

এনআরসি–‌র প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়েছে, আসামে ১৯ লক্ষ মানুষকে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা বাদ গিয়েছেন, তাঁদের এক বড় অংশ মুসলমান। দেশটির হিন্দুত্ববাদী বিজেপি–‌র দাবি, তারা বাংলাদেশি। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সেকথা অস্বীকার করেছে। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলন উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নতুন আইনে মুসলমানদের টার্গেট করা হয়েছে। এইভাবে ধর্মের ভিত্তিতে জনসংখ্যায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা হচ্ছে। ভারতে মুসলমানের সংখ্যা ২০ কোটি। ২০১৫ সালে ছিল ১৯ কোটি ৫৮ লক্ষ ১০ হাজার। ভারতের মোট জনসংখ্যার ১৪.৯ শতাংশ মুসলিম। সারা বিশ্বে যত মুসলিম আছেন, তাঁদের ১০.৫ শতাংশ আছেন ভারতে। মুসলিম বিরোধী নাগরিকত্ব আইন সিএএর প্রতিবাদে করা আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মুসলমানরা এ আইনে ক্ষুদ্ধ।



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে