বাংলাদেশিদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কটাক্ষ করলেন ভারতের বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা

0
82

জানুয়ারি ২৫, ২০২০ | অনলাইন ডেস্ক

ভারতের বিজেপি’র কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় তাঁর বাসায় কাজ করতে আসা নির্মাণকর্মীদের খ্যাদ্যাভাস দেখেই তাদেরকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে সন্দেহ করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস শুক্রবার তাঁর এসংক্রান্ত মন্তব্যের নিন্দা করেছে। নেট দুনিয়াতেও কৈলাস তীব্র সমালোচনা ও কটাক্ষের মুখে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে মধ্য প্রদেশের ইন্দোরে এক আলোচনাসভায় কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, তাঁর বাসায় কিছুদিন আগে নির্মাণ কাজ চলছিল। সেখানে কাজ করতে আসা কর্মীদের তিনি শুধুই পোহা (চিঁড়ে) খেতে দেখেছেন। আর এই ‘অদ্ভুত’ খাদ্যাভাস দেখে তাঁর সন্দেহ হয়েছে কর্মীদের জাতীয়তা নিয়ে। তাঁর মনে হয়েছে, নিয়মিত পোহা (চিঁড়ে) খাওয়া ওই নির্মাণকর্মীরা বাংলাদেশের বাসিন্দা।

এব্যাপারে শুক্রবার কংগ্রেসের মুখপাত্র সুস্মিতা দেব ওই বিজেপি নেতার মন্তব্যের নিন্দা করেছেন। এ সম্পর্কে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে সুস্মিতা দেব বলেন, ‘আমরা খবরে দেখেছি বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় এমন বিবৃতি দিয়েছেন যাতে মনে হচ্ছে দেশে মানুষ কী খাচ্ছে তার ওপরেও সরকারের নজরদারি রয়েছে! উনি নিজের বিবৃতিতে বলেছেন, তাঁর বাসায় কিছু এমন মানুষ নির্মাণ কাজ করেছেন তারা এমন খাবার খাচ্ছিল যাতে মনে হয়েছে যে এরা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। খবরে প্রকাশ, যে খাবারের কথা উনি বলেছেন তা এ দেশে আজ থেকে নয়, বহু বছর ধরে খাওয়া হচ্ছে তা হল চিঁড়ে।’

সুস্মিতা বলেন, ‘আমরা বারবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলে আসছি যে জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন ‘এনপিআর’-এর একটি অধ্যায় ও অনুষঙ্গ আছে। এতে বাবা-মা কোথায় থাকে, তাঁদের জন্ম কোথায় হয়েছিল এসব অতিরিক্ত বিষয় ছাড়াও যা এই সরকার ও বিজেপির মানসিকতা এনপিআর নিয়ে ভয় সেখানেই। যদি বিজেপির এক সিনিয়র নেতা এমন বিবৃতি দিতে পারেন যে নির্মাণ শ্রমিক কী অদ্ভুত খাবার খাচ্ছে সেই খাবারকে দেখে ওনার মনে হয়েছে যে তারা অনুপ্রবেশকারী! সেজন্য আপনারা বুঝতে পারবেন যেভাবে অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি এনআরসি হয়েছে যদি সেভাবে এনপিআর কার্যকর হয় তাহলে দেশে সাধারণ মানুষের কী হাল হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ নাগরিকত্ব নিয়ে কে বিদেশি, কে এদেশের বাসিন্দা, কে দেশের বাইরের মানুষ অবৈধভাবে এসেছে এনিয়ে বক্তব্য রাখার আগে বিজেপির ওই সিনিয়র নেতা একবারও ভাবেননি যে তাঁর বিবৃতির কী প্রভাব পড়বে মানুষের উপরে। আমরা দুঃখিত যে বিজেপির এই মানসিকতার ফলে দেশবাসী এনপিআর-এর ভয়ে ভীত। আমরা তাঁর এধরণের মন্তব্যের নিন্দা জানাচ্ছি।



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে