রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে ফের মিথ্যাচার করলেন গণহত্যার খলনায়িকা সু চি

0
39

জানুয়ারি ২৩, ২০২০ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার খলনায়িকা মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি দাবি করেছেন রোহিঙ্গারা অতিরঞ্জিত করে নির্যাতনের কথা বলছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হতে পারে তবে তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনকে অতিরঞ্জিত করেছে।

আন্তর্জাতিক আদালতের রায় পড়ার কয়েক মুহূর্ত আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক নিবন্ধে সু চি এমন কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার গণহত্যা থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সুরক্ষায় নিজের ক্ষমতার ভেতর থেকে মিয়ানমারকে সব পদক্ষেপ নিতে হবে বলে আদেশ দিয়েছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। খবর রয়টার্সের।

এর আগে গত মাসে এক সপ্তাহের শুনানির সময় ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সুচি আদালতকে মামলাটি বাদ দিতে অনুরোধ করেছিলেন।

আদালত বলেছে, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতের আদেশ মিয়ানমারের জন্য মানা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া আদেশটি মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করেছে।

১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন অনুসারে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গাম্বিয়ার অনুরোধসাপেক্ষে বেশ কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ মঞ্জুর করেন আদালত। গণহত্যা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার যে আবেদন গাম্বিয়া করেছে, তা যৌক্তিক বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)।

আদালত বলেছে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কি না— সেই বিচারের এখতিয়ার জাতিসংঘের এই আদালতের রয়েছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণহত্যা কনভেনশনের ভিত্তিতে এই মামলা করার মতো প্রাথমিক অধিকারও গাম্বিয়ার আছে।

এ বিষয়ে আদালতের এখতিয়ার নেই বলে মিয়ানমার যে দাবি তুলেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এ বিচারপতি। সনদের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর আওতায় (ধারা ৮ ও ৯) এ মামলা দায়েরের গাম্বিয়ার প্রাইমা ফেসি অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালত।

আদালত মনে করেন, গণহত্যা সনদের ধারা ২-এর আলোকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী একটি বিশেষ সুরক্ষার অধিকারী (প্রোটেক্টেড) গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিশ্ব আদালতের এ রায়টি চূড়ান্ত। তবে বাস্তবিক হচ্ছে এটি কার্যকর করার কোনো উপায় নেই।

রোহিঙ্গাদের ওপর যে নিপীড়ন চালানো হয়েছে, তার প্রমাণ সংরক্ষণ করতে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং মিয়ানমারকে অবশ্যই চার মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া পরবর্তীকালে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রতি ছয় মাস পরে পরে পাঠাতে হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানে হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। সব মিলিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে সাড়ে ১২ লাখের বেশি নির্যাতিত রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে