দেশে পঞ্চম ব্যক্তির মৃত্যু নতুন রোগী শনাক্ত হয়নি

0
27


দেশে পঞ্চম ব্যক্তির মৃত্যু নতুন রোগী শনাক্ত হয়নি

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে মহামারী ছড়ানো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে দেশে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হলো। করোনাভাইরাসে কমিউনিটি সংক্রমণ শুরু হয়েছে। সীমিত আকারে কমিউনিটি সংক্রমণ হতে পারে বলে ধারণা করছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বুধবার এক ব্রিফিংয়ে  প্রশ্নের জবাবে বলেন, দুটি জায়গায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংক্রমণের উৎস এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করা যায়নি। সে কারণে সীমিতভাবে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে বলে আমরা মনে করছি।কমিউনিটি সংক্রমণের এ তথ্য উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিল। করোনাভাইরাসে বিশ্বে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন চার লাখেরও বেশি মানুষ। করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারীতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৬টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে।

আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মোট সংক্রমিত হয়েছে ৩৯ জন। এদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছে সাতজন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছে ৪৭ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ৪৭ জন।
যিনি মারা গেছেন, তিনি ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছিলেন। তখন তিনি তার এলাকার একটি হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার বয়স ছিল ৬৫। তার ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ছিল বলে তিনি জানান।

দেশে করোনাভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা দুটি ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করছিলাম। এখন পর্যন্ত সেখানে সংক্রমিত হওয়ার উৎস সম্পর্কে জানা যায়নি। সে কারণে সীমিতভাবে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে বলে আমরা মনে করছি। কিন্তু কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলার আগে আমাকে বিস্তারিত তথ্যের বিশ্লেষণ বলতে হবে।
তিনি বলেন, সীমিত স্কেলে যে এলাকাটির কথা আমরা বলছি, সেখানে লোকাল ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে ভেবে আমরা ওই এলাকাকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে সেটা প্রতিরোধ করার কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। তবে এখন পর্যন্ত এটা সারা দেশে ট্রান্সমিশন হয়েছে, এরকম কোনো পরিস্থিতি এখনও হয়নি।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে একজনেরও করোনা পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার যে নমুনা পরীক্ষা করেছি তাতে করোনা পজেটিভ আসার হার কিন্তু খুব কম। তিনি জানান, তারা এখন হাসপাতালে আসা নিউমোনিয়ার রোগীর নমুনাও পরীক্ষা করছেন। এ ধরনের পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত দুজনের করোনায় পজেটিভ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে তাদের বিদেশ থেকে আসা মানুষের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস পাওয়া গেছে।

আইইডিসিআর পরিচালক আরো জানান, করোনাভাইরাসের পরীক্ষার কেন্দ্র আরও বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে সরকার। ঢাকার বেশ কয়েকটি হাসপাতালসহ ঢাকার বাইরের কয়েকটি হাসপাতালে এ পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। আইইডিসিআরের যোগাযোগের জন্য ০১৯৪৪৩৩৩২২২ অথবা ১০৬৫৫ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখান থেকে হান্টিং নম্বরের মাধ্যমে অন্য নম্বরে টেলিফোনটি চলে যাবে। এ ছাড়া ১৬২৬৩ নম্বরেও যোগাযোগ করা যাবে। তিনি আবারও স্বাস্থ্য সতর্কতার বিষয়গুলো মেনে চলার অনুরোধ করেন।

অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ক্রমশ শক্তি বৃদ্ধি করছে। প্রাথমিকভাবে চীনে যখন এ ভাইরাস ছড়ায় তখন এক লাখ মানুষকে আক্রান্ত করতে ভাইরাসের সময় লেগেছিল ৬৭ দিন। এক লাখ থেকে দুই লাখে পৌঁছতে সময় লেগেছে ১১ দিন। আর তিন লাখে পৌঁছে গিয়েছে মাত্র চার দিনে। শুধু তাই নয়, চীন থেকে ইউরোপে পৌঁছতে যতটা সময় লেগেছিল এ ভাইরাসের, বাকি বিশ্বে ছড়াতে তার চেয়ে অনেক কম সময় লাগছে। বস্তুত এ মুহূর্তে কার্যত পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে করোনা সংক্রমণের খবর মিলছে। ইউরোপ ও এশিয়ার মতো বহু আফ্রিকার দেশও লকডাউন ও কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে।



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে