প্রতিবেশীদের ওপর ভারতের নিয়ন্ত্রণ চেষ্টাই চীনকে শক্তিশালী করেছে

0
14

ভারতীয় উপমহাদেশের বর্তমান গোলযোগ ব্যাপকতার মাত্রার দিকে থেকে ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্তির পর নজিরবিহীন। চলমান চীন-ভারত বিরোধ কৌশলগত সম্প্রদায়ের মনোযোগ দখল করে নিলেও কোভিড-১৯ আবির্ভাবের পর থেকে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ঘটে চলা ঘটনাপ্রবাহ প্রায়শই বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে অভিহিত এই উপ-অঞ্চলের বিরোধপূর্ণ নিরাপত্তা পরিবেশকে নতুন অবয়ব দিয়েছে।

চীনের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি ও দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা সংস্থা সার্কের আটটি দেশের সাথে তার দৃঢ় সম্পৃক্ততার কারণে তাকে এই জোটের ৯ম দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা ফুটিয়ে তুলেছে, বৈশ্বিক শক্তির মর্যাদা লাভে ভারতের তালগোল পাকানো চেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ করছে। চীনের অবস্থান এখানে জোরদার হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তীব্র বিস্ফোরণ, মুসলিম বিদ্বেষ, পঙ্গুত্ব সৃষ্টিকারী অর্থনৈতিক নীতি এবং আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত প্রতিবেশী নীতি নয়া দিল্লিকে ক্রমবর্ধমান হারে ভীতি প্রদর্শনকারী হিসেবে তুলে ধরেছে। অথচ অভিষেক অনুষ্ঠানে সার্ক নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মোদি মতপার্থক্য নিরসন ও আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য মাত্র ৫ ভাগ থেকে বাড়ানোর সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিলেন।

কিন্তু ২০১৫ সালে নেপালের ওপর ভারতের অঘোষিত অবরোধের ফলে ওই আশাবাদ উবে যায়। ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের পর আরোপিত ওই অবরোধ নেপালে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। ওই অবস্থা থেকে এখনো মুক্ত হওয়া যায়নি। নেপালের নতুন সংবিধানের প্রতি নয়া দিল্লির নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এই অঞ্চলের আকাঙ্ক্ষার প্রতি বড় ধরনের ক্ষত সৃষ্টি করে, তাকে চ্যালেঞ্জারের জন্য দরজা আরো খুলে দেয়।

নেপালের সাথে ক্ষতি পূরণ করা ও অন্তত মুখরক্ষার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে সভ্যতাগত যোগসূত্র ও বিশেষ সম্পর্ক থাকার কথা বলা হয়। কিন্তু আগের মতো এখানেও সমালোচনার সৃষ্টি হয় এই যুক্তিতে যে এটা কোন ধরনের সভ্যতা যেখানে ছোট দেশগুলো প্রতিবেশীদের দখল করে আগ্রাসী ভূমিকা পালন করে।

ভুটান, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি ও নির্বাচনে ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ ও কাঙ্ক্ষিত ফল না হলে ভীতি প্রদর্শন করার ফলে এসব দেশের ঘরোয়া রাজনীতিতে পরিবর্তনের দায়দায়িত্ব দিল্লিকেই নিতে হবে। এই অঞ্চলে ভারতের একমাত্র স্থিতিশীল বন্ধু বাংলাদেশও মুসলিমদের প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপির সন্ত্রাসী আচরণ ও বাংলাদেশী অভিবাসদের উইপোকা হিসেবে অভিহিত করার কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে সংবাদসংস্থা সাউথ এশিয়ান মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মোদির ২০১৪ সালের অভিষেক অনুষ্ঠানে পাকিস্তান উপস্থিত হলে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা হবে বলে আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি, আরো বরং অবনতি ঘটেছে।

ভারতের তার নিজের দেশের জনগণের প্রতি বৈষম্যমূলক হামলার ফলে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের কুৎসিত বাস্তবতা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাস সামাল না দিতে পারা, অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়া, চীনের সাথে সীমান্ত সঙ্ঘাতে ২০ ভারতীয় সৈন্যের নিহত হওয়ার উত্তাপ এখন দিল্লিতে ভালোমতো লাগছে।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে