কর্মহীনদের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি

0
17


কর্মহীনদের জন্য  দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি

বাংলাদেশে কারোনাকাল চলছে সাড়ে চার মাস। এর মধ্যে ১৪ লাখ লোক বেকার হয়েছে। বিশ্বজুড়ে করোনার আগ্রাসন কবে শেষ হবে কারও জানা নেই। চীনের উহান শহরে এর উৎপত্তির পর সেখানে ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছিল লাখের কাছাকাছি। চীন তাদের জনগণকে কঠোর লকডাউনের মধ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এখন লকডাউন উঠে গেলেও কঠোর স্বাস্থ্য সুরক্ষার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

বিশাল দেশ চীনে একমাত্র উহান ছাড়া করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটতে পারেনি। তারপরও চীনে এখনও সংক্রমণ হয়। তবে মৃত্যু নেই বললেই চলে। যার জন্য তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং করোনার এই চলমান কালেও চীন আগের চেয়ে ভালো ব্যবসা করে যাচ্ছে। বিশ্বের সব বাঘা বাঘা দেশ করোনাকাল অতিক্রম করতে হিমশিম খাচ্ছে। পরাশক্তিগুলোর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দেখলে গা শিউরে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে ইতোমধ্যে বেকারের সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। করোনার আগ্রাসন পৃথিবীকে কোথায় নিয়ে যাবে কে জানে? কারণ এখনও করোনাভাইরাসের কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। শুধু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি বিশ্ববাসীর একমাত্র সম্বল। মানুষের মৃত্যু ও সংক্রমণ বেড়ে চলছে। দিন যাচ্ছে আর মানুষ কর্মহীন হচ্ছে। এমনিতে আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশ। দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্তের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে অনেক বেশি। সে কারণে প্রাকৃতিক যেকোনো দুর্যোগের ধাক্কা মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়ে। বৈশ্বিক সমস্যা করোনাভাইরাস মোকাবিলায়ই আজ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বেকার হয়েছে। পেশাবদলের সংখ্যা আতঙ্কিত হওয়ার মতো। শিক্ষক হচ্ছে হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসীয় হচ্ছে ভ্যানচালক, ভালো চাকরি হারিয়ে কেউ হচ্ছে দোকানদার। সাড়ে চার মাসে যদি এ অবস্থা হয়, আগামী দিনগুলোতে কর্মহীন মানুষ বেড়ে যাবে। তখন কী হবে?

এরই মধ্যে  মহামারি  করোনাভাইরাস দেশের লাখো মানুষের আয়-রোজগার কেড়ে নিয়েছে। বেঁচে থাকার তাগিদে পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছে তারা। করোনায় সবচেয়ে বেশি পেশাবদল করতে বাধ্য হচ্ছে বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক-কর্মচারীরা। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে সবকিছু আস্তে আস্তে খোলা শুরু হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে তার নিশ্চয়তা নেই। এই দীর্ঘ সময়ে স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের বেতন দেওয়া বন্ধ। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনও বন্ধ রয়েছে। এসব শিক্ষক-কর্মচারী পেশা বদলাচ্ছেন বেশি। শিক্ষকতা ছেড়ে কেউ হচ্ছেন হকার, কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, আবার কেউ গ্রামে গিয়ে করছেন কৃষিকাজ। সম্প্রতি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক তথ্য দিয়েছে, কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ১৪ লাখ। এর বেশিরভাগই এখনও বেকার, কিছু লোক পেশা বদলে অন্য কাজ ধরেছেন। বাধ্য হয়ে তারা খরচ কমাচ্ছেন। অর্থাৎ এই সঙ্কটকালীন সময়ে তারা কোনো রকম খেয়ে-পরে বেঁচে আছেন।

এ সাড়ে চার মাসে মানুষের অবস্থা যখন এ রকম, তাহলে আগামী দিনগুলোর ভয়াবহতা নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। বেকারের সংখ্যা বাড়বে বই কমবে না। কর্মহীন, পেশাবদলকারী এরা রাষ্ট্রের নাগরিক। একসময় হয়তো সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন দেখতেন। এখন আর স্বপ্ন দেখেন না। খেয়েপরে বেঁচে থাকতে চান। করোনা তাদের স্বপ্ন-সাধ ধীরে ধীরে মিইয়ে দিচ্ছে। তাদের দিকে তাকানোর কেউ নেই।

করোনার কারণে আর্থিক সঙ্কটে পড়ে লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামে পাড়ি জমাচ্ছে। আগে তাদের জীবনযাপন ছিল এক রকম, আর এখন আরেক রকম। দেশের অর্থনীতি যদি ঠিক না হয়, তাহলে এই বেকারত্ব বাড়বেই। এজন্য নতুন করে কর্মহীনদের নিয়ে সরকারকে আলাদা করে ভাবতে হবে। তাদের আলাদা প্যাকেজ-প্রণোদনা দেওয়া দরকার ছিল। তাহলে হয়তো এ শ্রেণির জনগণ এমন করে ভেঙে পড়ত না। এদের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। যাতে তারা মানসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে।



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে