চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে: ভুটান

0
31

চীনের সঙ্গে সীমানা নিয়ে বিরোধের মধ্যে ভারতে ভুটানের দূতাবাস মঙ্গলবার জোর দিয়ে বলেছে যে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সীমানা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এই সীমান্ত এখনো চিহ্নিত হয়নি।

ভুটান সরকারের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সীমান্ত সমস্যা নিস্পত্তির জন্য এ পর্যন্ত মন্ত্রী পর্যায়ে প্রায় ২৪ দফা আলোচনা হয়েছে।

জি নিউজের বরাত দিয়ে এখবর জানিয়েছে সাউথইস্টমনিটর।

কনোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ২৫তম দফা আলোচনা বিলম্বিত হচ্ছে বলে ভুটানের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, পরবর্তী দফা সীমান্ত আলোচনায় সব বিতর্কিত এলাকা নিয়ে কথা হবে। পরস্পরের সুবিধাজনক সময়ে শিগগিরই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

গত জুনে চীন দাবি করে যে ভুটানের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত সাকতেং বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড। গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি কাউন্সিলের ৫৮তম বৈঠকে চীন ওই মন্তব্য করে। সেখানে সাকতেং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে একটি প্রকল্পে তহবিল প্রদানের বিরোধিতা করে চীন এবং একে বিতর্কিত ভূখণ্ড হিসেবে অভিহিত করে।

এতে ভুটান প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং ভুটানের বিষয়াদি দেখভালকারি চীনা প্রতিনিধির কাছে একটি কঠোর প্রতিবাদলিপি পাঠায়। এতে বলা হয়, সাকতেং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ভুটানের অবিচ্ছেদ্য ও সার্বভৌম ভূখণ্ড।

মজার বিষয় হলো এই অভয়ারণ্য কখনোই কোন বৈশ্বিক তহবিলের অংশ ছিলো না। এই প্রথম কোন আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে এখানকার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই সুযোগে চীন স্থানটির উপর তার দাবি নিয়ে হাজির হয়েছে।

কিন্তু স্থানটি চীনের দাবি করা ভারতের অরুনাচল প্রদেশের প্রধান শহর তেওয়াংয়ের কাছাকাছি হওয়ায় নয়া দিল্লি সতর্কতার সঙ্গে চীনের এই তৎপরতার উপর নজর রাখছে। পুরো অরুনাচল প্রদেশকে দক্ষিণ তিব্বত হিসেবে মনে করে চীন এবং এর মালিকানা দাবি করে আসছে।

ভুটানের সর্বপূর্বে তারাশিগাং জংখায় অবস্থিত এই সাকতেং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এর আয়তন ৭৪০.৬০ বর্গ কিলোমিটার।

দেশের একেবারে প্রত্যন্ত এলাকায় এই অভয়ারণ্যের অবস্থান বিধায় সেখানে তেমন কোন উন্নয়ন কাজ হয় না। সাকতেং অভয়ারণ্যের সঙ্গে ভারতের অরুনাচল প্রদেশেরও সীমানা রয়েছে।

এই বনে বিচিত্র ইকসিস্টেম রয়েছে। যার মধ্যে ওয়ার্ম ব্রডলিফ ফরেস্ট থেকে শুরু করে আলপাইন মিডোও রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে