হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের

0
54


হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচেই হার দেখল জেমি ডের শিষ্যরা। গতবারের চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ২-০ গোলের ব্যবধানে হার দিয়ে শুরু হলো জামাল ভূঁইয়াদের। গত আসরে এই ফিলিস্তিনের বিপক্ষে একই ব্যবধানে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে আগামী ১৯ জানুয়ারি (রবিবার) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিকরা।

গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় অতিথি দলটি। ২৯ মিনিটে ফিলিস্তিনের খালেদ সালেম গোল করে এগিয়ে দেন চ্যাম্পিয়নদের। শুরু থেকে জামাল ভূঁইয়াদের বল দখলে মরিয়া হতে দেখা গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি হালকা মেজাজেই খেলতে থাকে। বাংলাদেশ গোটা তিনেক আক্রমণ করে সফল না হলেও ফিলিস্তিন প্রথম আক্রমণ থেকেই গোল আদায় করে নেয়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আসরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল সাদামাটা। গতকাল স্টেডিয়ামের গ্যালারিও জমেনি। সাদউদ্দিন-মামুনুলদের পারফরমেন্স শুরুতে কিছুটা মুগ্ধতা ছড়ালেও পরে বিবর্ণ হয়ে যায়। প্রতিশোধ নেয়ার বদলে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের ষষ্ঠ আসরের শুরুতেই হারের হতাশায় ডুবল বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সর্বশেষ ওমান ম্যাচের দলে তিন পরিবর্তন এনে ফিলিস্তিন ম্যাচের একাদশ সাজান বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে। রিয়াদুল ইসলাম, বিপলু আহমেদ ও নাবীব নেওয়াজ জীবনের বদলে তপু বর্মন, মামুনুল ইসলাম ও মতিন মিয়াকে দিয়ে খেলান তিনি। সেই দলটা শুরুতে বল দখলে বেশ দাপটই দেখাচ্ছিল দল। প্রতিপক্ষের রক্ষণে কাঁপন ধরাতে না পারলেও গোছাল ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। অষ্টম মিনিটে ডি-বক্সের একটু বাইরে সাদউদ্দিন ফাউলের শিকার হলে ফ্রি-কিক পায় বাংলাদেশ। মামুনুলের ফ্রি-কিক বিপদমুক্ত করেন ডিফেন্ডাররা।

খেলার ধারার বিপরীতে ২৯ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে গোল আদায় করে নেয় শারীরিক গঠনে ও গতিতে এগিয়ে থাকা ফিলিস্তিন। মাঝ মাঠের একটু উপর থেকে মোহামেদ দারিয়াসের ডিফেন্সচেরা পাস ধরে গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানাকে একা পেয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান খালেদ সালেম। এরপর অবশ্য দুটো সুযোগ হাতছাড়া হয় মামুনুলের। এ জন্য ফিলিস্তিন গোলকিপারের দৃঢ়তার কথাও বলতে হবে। মামুনুলের বাঁকানো কর্নার ফিস্ট করে ফেরান ফিলিস্তিনের গোলরক্ষক তৌফিক আবু হাম্মাদ।

৩২তম মিনিটে রায়হান হাসানের লম্বা থ্রো ইনে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় হেডের পর দূরের পোস্টে থাকা তপুও হেডে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চোট কাটিয়ে ফেরা এই ডিফেন্ডারের প্রচেষ্টা অল্পের জন্য বাইরে যায়। শেষ দিকে ফিলিস্তিনের মাহমুদ আবুরাদার শট ফিরিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে দেননি রানা। তবে খেলার ৫৭ মিনিটে আবার পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। রাদোয়ান আবু কারাসের ক্রস লাফিয়ে উঠেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি ইয়াসিন খান। বল পান পেছনে থাকা লেথ খারৌব। ঠাণ্ডা মাথায় জাল খুঁজে নেয় ফিলিস্তিনের এই ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিট বাকি থাকতে মিডফিল্ডার মামুনুলকে তুলে নিয়ে ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিলকে নামান কোচ। কিন্তু গোল অধরাই থেকে যায়। নিজেদের মাঠে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশ ফুটবল দলকে। গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে রবিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়বে জামাল ভঁ‚ইয়ারা। এই ম্যাচে জিতলেই সেমির টিকেট পাবে দল।

বাংলাদেশ একাদশ :
আশরাফুল ইসলাম রানা, রায়হান হাসান, রহমত মিয়া, তপু বর্মন, ইয়াসিন খান, জামাল ভূঁইয়া, মামুনুল ইসলাম মামুন (মাহবুবুর রহমান সুফিল), সাদ উদ্দিন, মতিন মিয়া, সোহেল রানা ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

ডিসি



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে