পরীক্ষা দিয়েই দলে ঢুকতে হবে রিয়াদকে

0
33


পরীক্ষা দিয়েই দলে ঢুকতে হবে রিয়াদকে


তিন ধাপে পাকিস্তান সফরে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে ২ ধাপে দেশটিতে ৩ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি ও ২ টেস্টের প্রথম ম্যাচে খেলে এসেছে টাইগাররা। এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজের পর ফের এপ্রিলে পাকিস্তান যাবে বাংলাদেশ। তবে দুদলের সিরিজের একমাত্র ওয়ানডেতে পাওয়া যাবে না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। ব্যক্তিগত কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলবেন না বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। এছাড়া আজ থেকে শুরু হওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও নেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

বিগত প্রায় এক বছর ধরে টেস্টে সেভাবে পারফর্ম করতে পারছেন না অভিজ্ঞ এ ব্যাটসম্যান। শেষ ১০টি ইনিংসের মধ্যে মাত্র একটি ফিফটির মুখ দেখেছেন টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দেয়া মাহমুদউল্লাহ। ফর্মহীনতায় টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া এ অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের টেস্টের দরজা একেবারে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো মনে করেন, লড়াকু মাহমুদউল্লাহ পারফর্ম করেই টেস্ট দলে ফিরবেন।

পারফরমেন্স খারাপ হওয়ার কারণে বাদ পড়লেও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানিয়েছেন ভিন্ন কথা, ‘এটাকে বাদ বলা যাবে না। সে সিনিয়র খেলোয়াড়, তাই আমরা তাকে বিশ্রাম দেয়ার চিন্তা করেছি। ঘরের মাঠে খেলা, তাই কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়কে যাচাই করার কথাও ভেবে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বাস্তবে মোটেও সেটা নয়। ডমিঙ্গো কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর মাহমুদউল্লাহ খেলেছেন ৪টি টেস্ট। সবখানেই ব্যর্থ। এমন অবস্থায় কোচই মনে করছেন টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে মাহমুদউল্লাহকে নতুন করে ভাবা উচিত। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাদ পড়াকে টেস্ট ক্রিকেটে মাহমুদউল্লাহর ইতি দেখছেন না দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ডমিঙ্গো বলেন, ‘না, মোটেও না। এ মুহূর্তে সে দলের বাইরে। তবে সত্যি বলতে আমি তাকে লাল বলের ক্রিকেট- ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে বলেছি।

সে আমাদের দলের সাদা বলের ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রিয়াদের কথা যেটা বলব, সে লড়তে জানে। আমি নিশ্চিত সে টেস্ট দলে তার জায়গা পেতে কঠিন লড়াই করবে। ৪৯ টেস্ট খেলেছে। বাংলাদেশের জন্য দারুণ পারফর্ম করেছে। এ রকম দৃঢ়চেতা মানসিকতা ওর দলে জায়গা ফিরে পাওয়ার জেদ আমাদের জন্য ভালো।’

টেস্ট দলে ফিরতে হলে পারফরমেন্সের মাধ্যমেই মাহমুদউল্লাহকে ফিরতে হবে, কথাটা মনে করিয়ে দেন ডমিঙ্গো, ‘আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি কারণ এ মুহূর্তে সাদা বলের ক্রিকেটে ও (মাহমুদউল্লাহ) আমাদের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। টেস্ট দলে জায়গা পেতে হলে তাকে আবার সেভাবেই পারফর্ম করে ফিরতে হবে। আমি কেউ নই যে কোনো খেলোয়াড়কে বলব, তোমার খেলা বন্ধ করা উচিত। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে যারা খেলছে এবং পারফর্ম করছে এমন কাউকে তো বলা যাবে না। তার সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আছে কখন সে দেশের হয়ে খেলা শেষ করবে। আমি নিশ্চিতভাবেই তাকে সেই সুযোগটি দেব।’

সিরিজের একমাত্র ওয়ানডে ও শেষ টেস্ট খেলতে তৃতীয়বারের মতো পাকিস্তান যাবে বাংলাদেশ। ৩ এপ্রিল ওয়ানডে খেলবে দুদল। মূলত সন্তানসম্ভাবা স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য ওয়ানডে ম্যাচটি খেলতে চাচ্ছেন না মাহমুদউল্লাহ। এরপর ৫ এপ্রিল শুরু হবে শেষ টেস্ট। ২টি ম্যাচই করাচিতে অনুষ্ঠিত হবে।

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে অভিষিক্ত মাহমুদউল্লাহর সর্বশেষ ৪ টেস্টে কোনো ফিফটি নেই। এই ৮ ইনিংসে তার সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ৩৯, কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে। রাওয়ালপিন্ডিতে নাসিম শাহর হ্যাটট্রিক বলের সামনে যেভাবে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন, তা রীতিমতো দৃষ্টিকটু। ওই আউটের পর মাহমুদউল্লাহর টেস্ট খেলা নিয়ে সমালোচনা ওঠে। সেই সমালোচনার মুখে নির্বাচকরা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৬ জনের দলে রাখেনি অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারকে।

এসআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে