পাকিস্তান যাচ্ছেন মুশফিক!

0
27


পাকিস্তান যাচ্ছেন মুশফিক!

সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দাপটে খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। সফরকারী বোলারদের পিটিয়ে তুলাধুনা করেছেন মুশি। মজার বিষয় হলো টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি তার। আর এ মুহূর্তে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বাধিক তিন ডাবল সেঞ্চুরির মালিকও তিনি। তবে যাইহোক এর আগে দুইবার মুশফিকে ছাড়া পাকিস্তান সফরে গিয়ে কুপোকাত হয়েছে টাইগাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোরে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টিতে দুটি হেরেছে তামিমরা।

বৃষ্টির সুবাদে তৃতীয় ম্যাচে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে রক্ষা পেয়েছে। এরপর রাওয়ালপিন্ডি টেস্টেও হার। তাই মুশফিকের অভাবটা হাড়ে-হাড়ে টের পেয়েছে বাংলাদেশ দল। এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন এপ্রিলে পাকিস্তানে খেলতে যাবে মুশফিক? অবশ্য গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি মুশফিক। তবে আসন্ন সফরে পাকিস্তানে মুশি যাবে এমন আশা ব্যক্ত করেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করে মুশফিক ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়ার পর এই মন্তব্য করলেন পাপন।

মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) স্পিনার নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামের বোলিং তোপের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি জিম্বাবুয়ে। সেই সঙ্গে যোগ হলো তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম আর মুমিনুল হকের দুর্দান্ত ফিল্ডিং। সবমিলিয়ে দুর্দান্ত দলীয় পারফরমেন্সে ভর করে জিম্বাবুয়েকে এক ইনিংস ও ১০৬ রানের ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। এই নিয়ে টানা ৬ টেস্ট এবং দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর জয়ের দেখা পেল টাইগাররা। এমন জয়ের পর বেশ আনন্দিত বিসিবি সভাপতি পাপন। তার কাছে সংবাদমাধ্যম কর্মীরা জানতে চেয়েছিল মুশিকে পাকিস্তানে যেতে বলবেন কিনা? জবাবে বিসিবি সভাপতি জানালেন তিনি আশা করছেন মুশফিক যাবে। এ বিষয়ে পাপন বলেন, আমরা আশা করছি মুশফিক যাবে। সে নয় শুধু, যাকেই নির্বাচন করা হবে, সে যাবে। চুক্তিবদ্ধ প্রতিটি ক্রিকেটারের উচিত যাওয়া। এটা আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। ক্রিকেটারদের দেশের কথাও চিন্তা করতে হবে, শুধু নিজের কথা চিন্তা করলে হবে না।

আগের দুই দফায় দলের সেরা তারকাদের প্রায় সবাই ছিলেন। শুধু পারিবারিক কারণ দেখিয়ে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। যদিও তার আপন ভায়রা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ঠিকই খেলে এসেছেন দুই সফরেই। তাই বোর্ড সভাপতি টেনে আনলেন মাহমুদউল্লাহর প্রসঙ্গ। মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর স্ত্রী দুই বোন। সেদিকে ইঙ্গিত করে বোর্ড সভাপতি সংশয় প্রকাশ করলেন, মুশফিকের পরিবার সত্যিই শঙ্কিত কিনা। একটা ভয় ছিল (পাকিস্তান সফর নিয়ে)। কিন্তু এই সফরের পর আমাদের ছেলেরা যখন খেলে আসছে, তার বাড়ির লোকও তো খেলে আসছে! মাহমুদউল্লাহর কিছু হয়ে গেলে, পরিবারের কিছু হতো না? শুধু মুশফিকের বেলায় পুরো পরিবারের কান্নাকাটি? শুধু ওর ব্যাপারেই চিন্তিত? বিষয়টা কি এমন কিছু? মুশফিক এখন মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকেও শুনতে পারে যে, ওখানে (পাকিস্তান) কী অবস্থা বা কী হয়েছে?

তিনি আরো বলেন, মুশফিক চাইলে সতীর্থদের কাছ থেকে শুনতে পারে, আমাদের কাছ থেকে শুনতে পারে (পাকিস্তানে নিরাপত্তার কথা), তাহলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে। পাকিস্তান একটা ভিন্ন ইস্যু। মুশফিক নিজে থেকে (না যাওয়ার কথা) বলেছে আমাদের, কাউকে আমরা জোর করিনি। আমি মনে করি সবার সঙ্গে কথাবার্তা বলে ওর এবার যাওয়া উচিত।

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে