ভারতীয় যুবাদের আচরণে ক্ষুব্ধ কপিল-আজহার

0
7


ভারতীয় যুবাদের আচরণে ক্ষুব্ধ কপিল-আজহার


এবার অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে বাংলাদেশ। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এই সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্ম দেয়া বাংলাদেশ-ভারতের ৫ ক্রিকেটারকে শাস্তি দিয়েছে আইসিসি। যেখানে বাংলাদেশ থেকে রাকিবুল হাসান, তৌহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন এবং ভারত থেকে রবি বিষ্ণু ও আকাশ সিংকে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফাইনালে হারটা সহ্য হয়নি ভারতীয় যুবাদের। ম্যাচ শেষে জুনিয়র টাইগারদের সঙ্গে মৌখিক লড়াইয়েও নামে তারা।

একপর্যায়ে জুনিয়র টাইগারদের ম্যাচ জয়ের উদ্যাপনের মুহূর্তে বাংলাদেশের পতাকাও টেনে ধরে ভারতীয় যুবারা। অন্যদিকে ঠোঁটকাটা হিসেবে বিষেণ সিং বেদির পরিচিতি আজকের নয়। মুখে যা আসে, রাখঢাক না করে সেটিই বলে দেয়ার জন্য সব সময় বিখ্যাত তিনি।

এবার বিষেণ সিং বেদির কথার তীরে বিদ্ধ হলেন বাংলাদেশ ও ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা। তার মতে, যুব বিশ্বকাপের সেমিতে খেলা এশিয়ার দেশগুলোর খেলোয়াড়দের প্রত্যেকের বয়স উনিশের বেশি।

এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ছিল বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত। এই দেশের খেলোয়াড়দের দিকেই সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়েছেন ভারতের সাবেক এ অধিনায়ক, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এশিয়ার যেসব দেশ সেমিতে উঠেছে, তাদের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের বয়স উনিশের বেশি। আপনি এক মাইল দূরে দাঁড়িয়ে থেকেও এটা বুঝতে পারবেন। কয়েক বছর আগে রাহুল দ্রাবিড় বয়স বাড়িয়ে খেলানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। আমাদের হয়েছেটা কী? আমি অনেক হতাশ।

এছাড়া ম্যাচের পর দুদলের খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কি দেখেও বিরক্ত হয়েছেন বেদি। রাকিবুল হাসান জয়সূচক শেষ রানটি নেয়ার পর উল্লাসে মাতেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের দুই সাবেক অধিনায়ক কপিল দেব ও মোহাম্মদ আজহার উদ্দিনের দাবি, আইসিসির বাইরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডেরও (বিসিসিআই) উচিত অভিযুক্ত খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। যাতে করে ভবিষ্যতে আর কেউ বিশ^কাপের মতো মঞ্চে এমন কিছু করতে না পারে।

ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে মাঠের মধ্যে স্লেজি বা কথাকাটাকাটি যা হয়েছিল, সবই ছিল স্পোর্টিং। পুরোপুরি ক্রিকেটীয়। মাঠের সেসব ঘটনা মাঠে রাখাই হতো যুক্তিযুক্ত কাজ। কিন্তু তা না করে ম্যাচ শেষে প্রায় হাতাহাতি লেগে যায় দুদলের ক্রিকেটারদের মধ্যে। তবে দেশের যুবাদের এমন দৃষ্টিকটু মনোভাব পছন্দ হয়নি কপিল দেবের। নিজ দেশের বোর্ডের তরফ থেকেও সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক তাদের এমন আচরণের জন্য শাস্তি চেয়েছেন। ভারতের এক গণমাধ্যমকে কপিল দেব বলেন, আমি দেখতে চাই দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য বোর্ড (বিসিসিআই) খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ক্রিকেট প্রতিপক্ষকে অপমান করার বিষয় নয়। আমি নিশ্চিত, যুবা তারকাদের শাস্তি দেয়ার এটাই যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

ভারতকে ১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপ জেতানো তারকা আরো বলেন, আমি আগ্রাসনকে স্বাগত জানাই, তাতে দোষের কিছু নেই। তবে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ন্ত্রণও রাখতে হবে।

প্রতিযোগিতার নামে আপনি পরিমিতির লাইন ক্রস করতে পারেন না। আমি বলব যে, যুবারা ক্রিকেট মাঠে যে নোংরামি প্রদর্শন করেছে তা মেনে নেয়া যায় না।

একই সুরে আরেক সাবেক অধিনায়ক আজহার উদ্দিনের কণ্ঠেও, আমি হলে এসব অনূর্ধ্ব-১৯ খেলোয়াড়দের বিপক্ষে পদক্ষেপ নিতাম। একই সঙ্গে আমি জানতে চাই, এসব যুবা খেলোয়াড়দের যথাযথ শিক্ষা দেয়ার জন্য দলের সাপোর্ট স্টাফের ভূমিকাটা কী? দেরি হয়ে যাওয়ার আগে এখনই কিছু করা উচিত। এসব ছেলেদের অবশ্যই শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতে হবে।

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে