নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল আজ

0
14


নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল আজ

অস্ট্রেলিয়ায় চলমান টি-টোয়েন্টি নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের চার সেমিফাইনালিস্ট চূড়ান্ত হয়েছে। সেমিফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করা দলগুলো হলো- বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত এবং ইংল্যান্ড। আজ প্রথম সেমিতে সিডনি ক্রিকেট গাউন্ডে ভারত মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের এবং একই ভেন্যুতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দক্ষিণ আফ্রিকার। ম্যাচ দুটি শুরু হবে যথাক্রমে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা এবং দুপুর ২টায়।

ঘরের মাঠের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এর ওপর আবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। শিরোপা ছাড়া কিছু ভাবছে না অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা। সেই স্বপ্নের পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে মেগ ল্যানিংয়ের দল। ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনাল। অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে ভারত। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ৪ ম্যাচ খেলে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্টে ‘এ’ গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছায়। আর সমান ম্যাচ খেলে সবকটিতে জয়ী হয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে ভারত ৮ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে যায়। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’ থেকে ৪ ম্যাচের ৩টিতে জিতে সেরা চারে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ড। ৩ ম্যাচে জয় পেয়ে এবং একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগিতে গ্রুপ সেরা হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। আর সমান জয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয় ইংল্যান্ড।

আগের ৬ বারের ৪টিতে শিরোপা জিতে এবারো হট ফেভারিট ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ২০০৯ সালে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ইংল্যান্ড আর ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিরোপা জেতে। উইমেন বিগব্যাশ লিগের কল্যাণে অপ্রতিরোধ্য মেগ ল্যানিংয়ের দল। পুরুষদের সমান বেতন কাঠামো। শক্তিশালী ক্রিকেটীয় ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে স্বাগতিকরা। ভারত-ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের টাটকা স্মৃতি অজি নারীদের। পিছিয়ে নেই ভারতও, ২০১৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালিস্ট ছিল হারমান প্রীতের দল। টি-টোয়েন্টির শ্রেষ্ঠত্ব এখনো অধরা তাদের। তবে গেল আসরে সেমিফাইনালিস্ট ছিল ভারত।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় ভারত। প্রথম বারের মতো নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সাক্ষী হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ক্যানবেরা, মেলবোর্ন, পার্থ আর সিডনির ছয় ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাউন্ড রবিন পদ্ধিতে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে ১০ দলের খেলা। আগের সব আসরকে ছাড়িয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। হয়েছেও তাই, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, শক্তিশালী ধারাভাষ্য প্যানেল সব মিলিয়ে শুধু মাঠে নয় মাঠের বাইরে আলো ছড়িয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপের সপ্তম আসর।

অন্যদিকে, গ্রুপ ‘এ’তে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে লড়াই করলেও পরের ম্যাচে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারে। মূলত প্রথম দুটি ম্যাচে হেরে সেমিফাইনালে যাওয়ার আশা শেষ হয়ে যায়। তবে সমীকরণ ছিল নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে পরের দুটি ম্যাচে হারাতে পারলেই আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার। কিন্তু বোলাররা দায়িত্বটা দারুণভাবে পালন করলেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় সেটি আর হয়নি।

‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। ২০০৯ সালে নারী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসর মাঠে গড়ায় ইংল্যান্ডে। সে আসরে নিউজিল্যান্ডের মেয়েদের হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় স্বাগতিকরা। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত পরের তিন আসরের শিরোপা জেতে অস্ট্রেলিয়া। টুর্নামেন্টের গত ছয় আসরে ৪ বারই শিরোপা জয় করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া।

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে