ক্ষতির মুখে পড়বে না বিসিবি

0
27


ক্ষতির মুখে পড়বে না বিসিবি

করোনা ভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের ক্রিকেট খেলা। তাই লিগ ও সিরিজ বাতিল হওয়ার কারণে বড় ক্ষতির মুখে পড়ছে ক্রিকেট বোর্ডগুলো। বিশ্বের ধনী ক্রিকেট বোর্ড ভারত ও ইংল্যান্ডের মতো করোনায় বিশাল ক্ষতির কবলে পড়বে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিসিআইয়ের ক্ষতি হতে পারে ১০ হাজার কোটি রুপি, ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে ইংল্যান্ডও।

বিসিবির স্বস্তিতে থাকা মূলত করোনা ভাইরাসের আগেই ঘরোয়া ক্রিকেটের কিছু খেলা শেষ হয়ে যাওয়াতে। একই কারণে স্বস্তিতে আছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানও। বিসিবির বড় অঙ্কের রাজস্ব আসে বিপিএল থেকে। সেটি এবার ভালোভাবেই শেষ হয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত করোনার বড় প্রভাব বলতে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ড সফর এবং প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ স্থগিত হওয়া। কিন্তু এসবে বিসিবির আর্থিক ক্ষতি খুব বেশি হবে না। বিসিবির ফাইন্যান্সিয়াল কমিটির চেয়ারম্যান ইসমাইল হায়দার মল্লিক এমনই মনে করেন। তিনি ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদ মাধ্যম ক্রিকবাজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব জানিয়েছেন।

সম্প্রতি সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতি বেশ জটিল হচ্ছে। তাই কবে ব্যাট-বল হাতে খেলোয়াড়রা মাঠে নামবে, তা কেউ জানে না। এমন অবস্থায় এখন দেখার বিষয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কী অবস্থা হয়? সবরকম ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড বন্ধ। হোম সিরিজ নেই। এমনকি দেশের বাইরে গিয়ে কোথাও খেলার সুযোগও নেই। বিসিবির সামনেও হয়তো আর্থিক ক্ষতির হুমকি থাকবে। সে ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার পর্যাপ্ত সামর্থ্য কি বোর্ডের আছে? এ প্রসঙ্গে বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান ইসমাইল হায়দার বলেছেন, আমাদের রাজস্ব আয়ের টুর্নামেন্টগুলোর কোনোটাই করোনার কারণে বাদ পড়েনি।

পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড সফরের কথা ছিল। সেগুলোতে তো আরেক বোর্ডের আয় হতো। সেদিক থেকে আমরা ভালো জায়গায় আছি।

তবে দুশ্চিন্তা যে একেবারেই নেই, তা নয়। বিসিবির রাজস্বের ৫০ ভাগই আসে আইসিসির টুর্নামেন্ট থেকে। আগামী অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ স্থগিত হলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের কোষাগারে বড় ধাক্কাই লাগার কথা। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপও বিসিবির জন্য লাভজনক। বিসিবি এখন সে টুর্নামেন্টগুলোর দিকেই তাকিয়ে।

পরিস্থিতির কারণে ঘরোয়া ক্রিকেট না হওয়ায় বিসিবির কিছু খরচও কম হচ্ছে এখন। ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ও ঘরোয়া লিগ আয়োজনে মোটামুটি ভালো অঙ্কের অর্থই খরচ হয়। যোগ-বিয়োগ করে অর্থ কমিটির প্রধান ইসমাইল হায়দার সম্ভাব্য ক্ষতির একটা অঙ্ক দাঁড় করাতে চাইলেন, সব মিলিয়ে এ বছর বিসিবির ক্ষতি হতে পারে সর্বোচ্চ ২০-২৫ ভাগ। অবশ্য এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বা আরো খারাপ হলে অঙ্কটা বাড়তেও পারে।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পুরো বিশ্ব যখন বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়েও আতঙ্কিত তখন ইসমাইল হায়দার আশার কথা শুনিয়েছেন। তার মতে, আর্থিকভাবে বিসিবি ভালো অবস্থানে আছে। বলতে পারেন বিশ্বের সেরা পাঁচ বোর্ডের মধ্যেই আছি। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান এমনকি শ্রীলঙ্কা থেকেও আমরা ভালো অবস্থানে। আর আমাদের কিছু সংরক্ষিত তহবিলও আছে।
তবে ক্ষতি যাই হোক, সেটি পুষিয়ে নেয়ারও সম্ভাবনা দেখছেন তিনি, অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে খুব বেশি না হলেও কিছু রাজস্ব আসত। তারপরও যদি বিশ্ব কাপ এশিয়া কাপ হয়, আর বছর শেষে যদি বিপিএলটা করতে পারি, তাহলে আমরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব যে কিছুটা হলেও পড়বে বাংলাদেশ ক্রিকেটে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। বিসিবিও সেটি মেনেই এগোনোর কথা ভাবছে। খেলা না হলে মাঠের স্পন্সর, জার্সির স্পন্সর থেকে রাজস্ব আয় হবে না। ঘরের মাঠে জুন ও আগস্টে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হওয়ার কথা। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে দুটি সিরিজই হয়তো স্থগিত হতে চলেছে। অবশ্য বড় দলের বিপক্ষে খেলা হলেও টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিসিবির খুব বেশি লাভ হয় না। তাই ক্ষতি কিছু হলেও অঙ্কটা বড় হওয়ার শঙ্কা নেই।

এসআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে