বেতন কর্তনের ঝুঁকিতে কোহলিরা!

0
29


বেতন কর্তনের ঝুঁকিতে কোহলিরা!

আইপিএলের প্রধান আকর্ষণই মাঠ ভর্তি দর্শক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের চেয়েও এই টুর্নামেন্টের জনপ্রিয়তা বেশি মনে করা হয় এই একটা কারণে। তবে করোনা ভাইরাস এমনই পরিস্থিতিতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, দর্শক সমাগম তো আরো দূরের চিন্তা, আইপিএল হবে কিনা সেটিই এখন অনিশ্চিত। আইপিএল না হলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) বিরাট ক্ষতি। এ অঙ্কটা ছুঁয়ে যেতে পারে ৩ হাজার কোটিও। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা অবশ্য এটির আয়োজনে আশাবাদী। সংক্ষেপিত আকারে হলেও যাতে এবারের আইপিএল হয়, সেটি বলছেন তারা। ২৯ মার্চ থেকে আইপিএল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আপাতত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত। তবে করোনার প্রকোপ ভারতসহ পৃথিবীব্যাপী যেভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে আইপিএল কবে হবে এ নিয়ে আছে শঙ্কা। অনেকেই তো আইপিএল ২০২০ বাতিল করে দেয়ার কথা বলছেন।

আইপিএল যদি আদৌ না হয়, তাহলে বিপদে পড়তে পারেন বিসিসিআইয়ের সঙ্গে চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়রাও। লোকসানের মুখে পড়া ভারতীয় বোর্ড বেতন কাটতে পারে কোহলি-রোহিতদের মতো তারকাদের।

মুম্বাই মিররকে এ ব্যাপারে বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন এ আশঙ্কার কথা, সত্যি বলতে কি, প্রতিষ্ঠান যদি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় কাটছাঁট আসতে পারে। তবে এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলার সময় হয়নি।

বিসিসিআইয়ের বর্তমান কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় বিরাট কোহলি, জাসপ্রীত বুমরা, রোহিত শর্মাদের মতো ‘এ প্লাস’ শ্রেণিভুক্ত খেলোয়াড়রা বছরে ৭ কোটি রুপি বেতন পেয়ে থাকেন। ‘এ’ শ্রেণি হচ্ছে দ্বিতীয় স্তর। রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, ভুবনেশ^র কুমার, আজিঙ্কা রাহানে হচ্ছেন ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত। তারা বেতন পান ৫ কোটি রুপি। তৃতীয় স্তর অর্থাৎ ‘বি’ শ্রেণিভুক্তরা বছরে পেয়ে থাকেন ৩ কোটি। ‘সি’ শ্রেণি পান ১ কোটি রুপি।

বিসিসিআইয়ের নারী ক্রিকেটাররা অবশ্য কোহলি, অশি^নদের মতো এত টাকা পান না। সেখানে ‘এ’ শ্রেণিভুক্তরা পান বছরে ৫০ লাখ রুপি, ‘বি’ শ্রেণি পান ৩০ লাখ ও ‘সি’ শ্রেণি ১০ লাখ রুপি। এ বছর মেয়েদের আইপিএলের তৃতীয় আসরও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। করোনা ভাইরাস হতে দিচ্ছে না সেটিও।

অন্যদিকে ভারতীয় অফস্পিনার হারভজন সিং ফাঁকা স্টেডিয়ামে আইপিএল অনুষ্ঠিত হলেও কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন। যে করেই হোক, তাড়াহুড়ো করে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করতেই হবে, এমন চিন্তারও পক্ষপাতী নন ভাজ্জি। তার মতে, করোনা সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে তবেই এই প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত। কারণ মানুষের সুস্থতার দিকটাই সবার আগে।

হারভজন বলেন, দর্শকরা সব সময়েই গুরুত্বপূর্ণ। একজন ক্রিকেটার হিসেবে অবশ্যই দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে খেলতে পছন্দ করি না আমি। কারণ এতে সেই উৎসাহ বা উদ্দীপনা পাওয়া যায় না। কিন্তু একান্তই যদি ফাঁকা মাঠে খেলতে হয়, আর কী-ই বা করা যাবে? যদি দর্শকহীন স্টেডিয়ামে আইপিএল হয়, তাহলে নিশ্চিত করতে হবে প্রতিটি দর্শক যেন টিভিতে সেই ম্যাচ দেখতে পারেন।

অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার সঙ্গে যোগ করেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের সব ব্যাপারেই সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রাধান্য দিতে হবে খেলোয়াড়দের। যেখানে খেলা হবে সেই স্টেডিয়াম থেকে হোটেল, ফ্লাইট সব কিছুই যেন জীবাণুমুক্ত থাকে।’

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে