মাশরাফির কাছে গোলাবারুদ নয়, ভালোবাসার কদর বেশি

0
31


মাশরাফির কাছে গোলাবারুদ নয়, ভালোবাসার কদর বেশি

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরেছে পুরো বিশ্বে। এর বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না কোন কিছুতেই। ইতালি, স্পেন ও আমেরিকার মতো দেশ যাদের আমরা উন্নত দেশ বলে জানি সেইসব দেশেই এর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের অন্যদেশগুলোর কাছে পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এই ভাইরাসে। অথচ এই আমেরিকার রয়েছে উন্নত সব সমরাস্ত্র। কিন্তু এর কিছুই এখন কাজে আসছে না দেশটির। এইতো কয়েকদিন আগে আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট এর ক্যাপ্টেন কেমন করুনার সুরেই সাহায্য চাইলেন অন্যদের কাছে। যেন জাহাজটিতে থাকা নাবিকরা যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তাদের বের করে নিয়ে আসা হয়। অথচ এই জাহাজ পারমানবিক শক্তিসমৃদ্ধ। এমন দুঃসময়ে এই পারমানবিক শক্তির কোন কিছুই এখন কাজে আসছে না। কিন্তু এই কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে এগিয়ে আসছেন সাধারণ মানুষরা। ডাক্তার ও নার্সরা মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও কাজ করে যাচ্ছেন নিস্বার্থভাবে। যেখানে অস্ত্রের ঝনঝনানি কাজ দিচ্ছে না সেখানে ভালোবাসা জয় করে নিচ্ছে এই করোনা ভাইরাস।

ঠিক একথাটাই এক বাক্যে বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মাশরাফি লেখেন, ‘করোনা ভাইরাস প্রমাণ করল গোলাবারুদের চেয়ে ভালোবাসার শক্তি বেশি।’ মাশরাফির এই কথাটির প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষরা। তারা তাদের পাশের দুস্থ মানুষদের যেন কোন কষ্ট না হয় সেজন্য প্রায় প্রতিদিনই ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছেন।

মাশরাফি মর্তুজা নিজেও ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করার চেস্টা করে যাচ্ছেন। তার উদ্যোগেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষদের সহায়তায় সবার প্রথমে এগিয়ে আসেন জাতীয় দলের ২৭ ক্রিকেটার। তারা দান করে দেন তাদের এক মাসের অর্ধেক বেতন। যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৩১ লাখ টাকা। মাশরাফিকে সবাই মানে নেতা হিসেবে। তিনিও ঠিক নেতার মতোই সবাইকে এক করে দুস্থ মানুষদের সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন।

মাশরাফি মর্তুজার আরেকটি পরিচয় হলো তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য। নড়াইল ২ আসন হলো তার সংসদীয় এলাকা। তিনি সেখানকার জনপ্রতিনিধি বা জনগণের সেবক। আর জনগনের সেবকের মতো করেই তিনি এগিয়ে এসেছেন। তার এলাকায় এই ভাইরাসের কারণে খেটে খাওয়া মানুষ যেন কোনো কষ্টে না পরে সেজন্য তিনি সেখানে ত্রান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এবং এই সাহায্য যেন যাদের প্রয়োজন ঠিক তারাই পায় সেজন্য নিজে সবকিছু তদারকি করছেন।

এতো গেলো তার এমপি হিসেবে করা কাজগুলোর কথা। মাশরাফি মর্তুজা নামে তার একটি জনকল্যাণমূলক ফান্ড রয়েছে। সেই ফান্ড থেকে মানুষকে সহায়তা করে যাচ্ছেন তিনি। করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশে একটি বিষয় দেখা যাচ্ছে আর তা হলো বেশ কয়েক জায়গায় অন্য সাধারণ চিকিৎসা নিতে পারছেন না রোগীরা। তারা হাসপাতালে গিয়েও চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে আসছেন। আর এই সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যতিক্রম এক উদ্যোগ চালু করেছেন তিনি। আর তা হলো ডাক্তাররা বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা করবে। এজন্য তিনি একটি হেল্পলাইন চালু করেছেন। কারো যদি ডাক্তার প্রয়োজন হয় তাহলে ফোন করলেই ডাক্তার চলে যাচ্ছে বাড়িতে। বাড়িতে গিয়ে ডাক্তাররা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন এবং প্রয়োজনভেদে কিছু ঔষধও দিচ্ছেন। অনেক রোগী আছেন যাদের অবস্থা খুব খারাপ। তারা যেন নির্বিঘ্নে হাসপাতালে যেতে পারেন সেজন্য তিনি তার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। নিঃস্বার্থভাবে এতো এতো কিছু করছেন তিনি শুধুমাত্র দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা থেকে। এ কথা নিজেই জানিয়েছেন মাশরাফি।

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে