শ্রমজীবী মানুষের পাশে সালমা খাতুন

0
48


শ্রমজীবী মানুষের পাশে সালমা খাতুন

অসহায় নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন। সেই সঙ্গে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) খুলনার রূপসা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মিল্কি দেয়ারায় নিম্ন আয়ের ৬০টি পরিবারের মধ্যে এক সপ্তাহের খাবার বিতরণ করেন তিনি। এই সাহায্য অব্যাহত থাকবে বলেও জানান সালমা খাতুন। এছাড়াও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে নিজ বাড়িতে অবস্থান করা এবং বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অনুরোধ করেন সালমা।

বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে স্থবির হয়ে আছে বাংলাদেশ। ফলে দৈনিক আয়ের উপর নির্ভরশীল মানুষেরা এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়েছে। শ্রমজীবী অসহায় কর্মহীন এসব মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বিত্তবানরা। বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও নিজেদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এপ্রিল মাসের বেতনের অর্ধেক দিয়ে ইতোমধ্যে তহবিল গঠন করেছে। এছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যেগে কাজ করছেন তারা। জাতীয় দলের নারী ক্রিকেটাররা এগিয়ে এসেছেন দেশের এমন বিপর্যয়ের সময়। নিজের জন্মদিনে অসহায় মানুষদের খাবার দিয়েছিলেন নারী ক্রিকেটার জাহানারা খাতুন। এবার অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ নারী ওয়ানডে দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন।

দরিদ্রদের সাহায্য করছেন সালমা।

শুক্রবার সকাল ১১টায় খুলনায় নিজ গ্রামের অসহায় ৬০ শ্রমিক পরিবারের হাতে খাদ্য দ্রব্যাদি তুলে দেন তিনি। এসময় তার সাঙ্গে ছিলেন খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রিকেট দলের কোচ ইমতিয়াজ হোসেন পিলু। অধিনায়ক সালমার জন্মস্থান খুলনার রূপসা উপজেলার রাজাপুর মিলকি দেয়ারা গ্রামে। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। ছোট বেলা থেকে স্বল্প আয়ের মানুষের সাথেই তার চলাচল। ফলে এই দুঃসময়ে তাদের কষ্ট ছুঁয়ে গেছে তাকে। নিজের সাধ্যমতো কাজ হারিয়ে ফেলা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন সালমা।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই নৌ-ঘাটের শ্রমিক পরিবার ও গুদাম শ্রমিক। করোনা ভাইরাসের কারণে তারা সকলেই এখন কাজ হারিয়ে বসে আছে। এসব পরিবারের পাশে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়িয়েছি।’

মানুষকে সাহায্য করার পাশাপাশি করোনা ভাইরাস থেকে সচেতন থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাসায় থাকার পাশাপাশি নিয়মিত হাত ধোঁয়া ও অন্যান্য সকল সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে যাদের সুযোগ আছে, তাদেরকেও তিনি অসহায় গরীব পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সালমা ছাড়াও দেশের এই ক্রান্তিকালে এগিয়ে এসেছে জাতীয় পুরষ দলে ও নারী দলের আরো অনেক ক্রিকেটার। পুরুষ দলের ২৭ ক্রিকেটার সম্মিলিতভাবে নিজেদের বেতনের অর্ধেক করে অনুদান দিয়ে প্রায় ৩১ লাখ টাকার তহবিল গঠন করেন। অন্যদিকে প্রথম শ্রেণির চুক্তিবদ্ধ ৯১ জন ক্রিকেটারও তাদের এক মাসের বেতনের অর্ধেক করে অনুদান দেন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (কোয়াব) গঠিত তহবিলে।

ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো ক্রিকেটারের সংখ্যাও কম নয়। মাশরাফি বিন মর্তুজা, লিটন দাস, রনি তালুকদার, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, রুবেল হোসেন, কামরুল ইসলাম রাব্বি, এনামুল হক বিজয় প্রমুখরা আছেন সেই তালিকায়। এছাড়া নারী দলের ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণও কম নয়, জাহানারা আলম, রুমানা আহমেদ, সোহেলী আক্তারদের সাথে এবার যুক্ত হয়েছেন সালমা খাতুন।

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে