ফুটবলের পর এবার মাঠে ফিরছে ক্রিকেট

0
21


ফুটবলের পর এবার মাঠে ফিরছে ক্রিকেট

ক্রিকেট

একদিকে করোনার কারণে মাঠে গড়াচ্ছে না বল। মরিচা ধরে যাচ্ছে ব্যাটে কিংবা বলে। অপর দিকে খেলা না হওয়ার কারণে ক্লাবগুলো পড়ছে আর্থিক সংকটে। সব মিলিয়ে মাঠে না থাকার অভাব অনুভব করছেন খেলা জগত। ইতোমধ্যে মাঠে ফেরার কথা জানিয়েছে ফুটবল। করোনার মধ্যেই ফুটবল ফিরেছে ইউরোপে। জার্মান বুন্দেসলিগা শুরু হয়েছে গত সপ্তাহেই। শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে ইতালি, লা লিগা এবং ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগও।

ফুটবল ফিরেছে মাঠে, ক্রিকেট কেন পেছনে পড়ে থাকবে? সুতারং, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ক্রিকেট ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। এরই মধ্যে আইসিসি মাঠে ক্রিকেট ফেরানোর বিষয়ে কিছু গাইডলাইনও তৈরি করে ফেলেছে। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগতভাবে স্কিল ট্রেনিং শুরু করেছে। জুলাইতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে চায় তারা। আগস্টে পাকিস্তান যেতে চায় ইংল্যান্ড সফরে।

এরই মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও উদ্যোগ নিচ্ছে ক্রিকেটকে মাঠে ফেরানোর। ক্লোজডোর স্টেডিয়ামে কিভাবে ক্রিকেট ফেরানো যায়, সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার মূলতঃ তাদের দেশে খেলাধুলার সমস্ত আয়োজনকে কিভাবে আবার শুরু করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু, বর্তমান পরিস্থিতিতেই কিভাবে সব ক্রীড়া ইভেন্ট মাঠে আনা যায়, সে পরিকল্পনা করছে তার সরকার। এর মধ্যে ক্রিকেট কিভাবে মাঠে ফিরবে, সে দায়িত্ব বিসিসিআইর।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই এরই মধ্যে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে আইপিএলের ১৩তম আসর আয়োজনের ব্যাপারে একটা খসড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যদি স্থগিত হয়ে যায়, তাহলে আইপিএল অনুষ্ঠিত হতে পারে এই সময়ে। তবে বিসিসিআই একই সঙ্গে এটাও জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের কাছে সমর্থক এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড়। স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রেখে যদি খেলা আয়োজন করা যায়, তাহলে তারা সামনে এগুবে।

আইএএনএস এবং বিসিসিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী রিজিজুর আলাপে সমর্থকদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার বিষয়টিই মুখ্য হিসেবে উঠে এসেছে। তিনি ওই সময় জানিয়েছেন, অর্থপ্রাপ্তিই মূল উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হলো, সময়মতো খেলাধুলা মাঠে ফেরানো। এর মধ্যদিয়েই হয়তো সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে রাজস্ব আয় সম্ভব হবে। এক কর্মকর্তা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘এই অসাধারণ এক সময়ে আমাদের অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য খুবই ছোট। একই সঙ্গে সমর্থকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আমাদের সর্বোচ্চ প্রায়োরিটিতে রয়েছে। যারাই খেলার আয়োজন করবে, তাদেরকে এই বেসিক বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি স্পোর্টিং ইকোসিস্টেমের বিষয়টা খুব ভালোভাবে উল্লেখ করেছেন।’

ভারতের কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর বিবৃতি কিংবা বক্তব্য আসার আগেই বিসিসিআই ক্রিকেট ফেরানোর ব্যাপারে চিন্তা শুরু করেছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ অরুণ ধুমাল জানিয়েছেন, ক্রিকেট ফেরাতে বিরাট কোহলিদের অনুশীলন ক্যাম্পের আয়োজন করা হতে পারে ধর্মশালায়।

অনুশীলন ক্যাম্প করার জন্য বিসিসিআইর কাছে ব্যাঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিই অগ্রাধিকার পেয়েছিল। তবে সেটা করোনার রেড জোন। এ কারণেই বিকল্প ভেন্যু ঠিক করে রাখতে চায় সৌরভ গাঙ্গুলিরা। সে ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ধর্মশালা। ধুমাল নিজেই বলেছেন, ‘এখানে শিবির করার জন্য জোর করব না। শুধু এটুকু বলতে পারি, শিবির করার মতো সব রকমের সুযোগ-সুবিধে আমাদের ওখানে রয়েছে।’

এমআই



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে