বাংলাদেশও বিশ্বকাপ খেলবে বিশ্বাস জামালের

0
35


বাংলাদেশও বিশ্বকাপ খেলবে বিশ্বাস জামালের

গত রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা ইউরোপের ছোট দেশ আইসল্যান্ডের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে সবার। ছোট একটি দেশ হয়েও বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল তারা। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে তাদের পারফরমেন্সও ছিল চোখে পড়ার মতো। আইসল্যান্ডের যে ফুটবলাররা বিশ্বকাপ খেলেছিলেন তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ছিলেন অন্য পেশার মানুষ। কিন্তু তবুও তারা জায়গা করে নিয়েছিলেন বিশ্বকাপে। আর আইসল্যান্ডের মতো ছোট একটি দেশ যদি বিশ্বকাপ খেলতে পারে তাহলে বাংলাদেশও বিশ্বকাপ খেলতে পারবে এমন বিশ্বাস আছে জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার। শুক্রবার এক ফেসবুক লাইভে এমন কথা বলেন তিনি। ফেসবুক লাইভে আইসল্যান্ডের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বলেন, ‘আইসল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলেছে। ওদের জন্যসংখ্যা হয়তো ৫-৬ লাখ হবে। আর আমরা ১৬ কোটি মানুষ। তো আইসল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলতে পারলে আমরাও একদিন খেলতে পারব। আমাদের এ বিশ্বাস রাখতে হবে।’

এক দর্শকের প্রশ্ন ছিল কবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারে বলে মনে করেন অধিনায়ক? এমন প্রশ্নের জবাবে জামাল ভূঁইয়া জানান বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। তবে এজন্য বাংলাদেশকে পাড়ি দিতে হবে লম্বা পথ। আর এদিক দিয়ে তিনি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে বলেন যে ভারত এত বড় দেশ হয়েও এখনো বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি। ফলে বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে হলে বাংলাদেশকে ধৈর্য ধরতে হবে। এ ব্যাপারে জামাল বলেন, ‘বিশ্বকাপ খেলা কঠিন কাজ। দেখুন ভারত এত বড় দেশ, তাদের এত স্পন্সর, এত জনসংখ্যা, এত সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও ভারত কিন্তু বিশ্বকাপ খেলতে পারে না। কারণ অনেক লম্বা পথ এটা। আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে, একদিন বিশ্বাকাপ খেলতে পারব। এজন্য আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে। আরো ভালো ভালো ফুটবলার তৈরি করতে হবে।’

তাছাড়া জামাল ভূইয়া আরো জানিয়েছেন তিনি যতদিন বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলবেন ততদিনে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নতি দেখতে চান। এমনকি তার বিশ্বাস সেটি সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে জামাল বলেন, ‘আমি চাই বাংলাদেশ দিন দিন র‌্যাঙ্কিংয়ে আরো উপরে উঠুক। আগামীতে আরো ভালো খেলুক। জয়ের সংখ্যাটা বেশি হোক। সামনে আমাদের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের কয়েকটি ম্যাচ আছে। সেখান থেকে আমরা পয়েন্ট পাওয়ার চেষ্টা করব।’

প্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান জামাল ভূঁইয়া। তিনি তার পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন ডেনমার্কে। সেই দেশটির লিগেই খেলতেন তিনি। আর তার পারফরমেন্স দেখে তাকে দেশে নিয়ে আসে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এরপর ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের জার্সি গায়ে নেপালের বিপক্ষে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার সুযোগ পান তিনি। সেই থেকেই বাংলাদেশ দলের সঙ্গেই রয়েছেন তিনি। এমনকি ডেনমার্ক ছেড়ে এখন তিনি বাংলাদেশেরই ঘরোয়া ফুটবল দল সাইফ স্পোর্টিংয়ের হয়ে খেলছেন। জামাল বর্তমানে বাংলাদেশ ও সাইফ স্পোর্টিং ২টি দলেরই অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম বড় সাফল্য হলো ২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসের রাউন্ড ষোলোতে খেলা। সেবারই প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের নক-আউট পর্বে খেলার টিকেট পেয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আর রাউন্ড ষোলোতে জায়গা করে নিতে বাংলাদেশ ১-০ গোলে হারিয়েছিল কাতারের অলিম্পিক দলকে। আর কাতারের বিপক্ষে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেছিলেন জামাল ভূইয়া। তাছাড়া ৮ দলের অংশগ্রহণে হওয়া বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের মোস্ট ভেলুয়েবল খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ফলে তার মতো একজন সফল ফুটবলারের কাঁধে যেহেতু বাংলাদেশের দায়িত্ব রয়েছে তাই বাংলাদেশের সমর্থকরা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার স্বপ্ন দেখতে পারেন। এটা কাতারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২২ বিশ্বকাপে না হোক পরের বিশ্বকাপেই হতে পারে।

পিআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে