শুভ জন্মদিন মুশফিকুর রহিম

0
30


শুভ জন্মদিন মুশফিকুর রহিম

১৯৮৭ সালের ৯ মে বগুড়ার মাটিডালিতে জন্মগ্রহণ করেন মুশফিক। আজ তার শুভ জন্মদিন। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে মুশফিক প্রথমবারের মত জাতীয় দলে সুযোগ পান। ইংল্যান্ডের মাটিতে এটাই ছিলো বাংলাদেশের প্রথম সফর। ১৬ বছর বয়সী এই তরুণ প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯ রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরত যান।

২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপে মুশফিক বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন। অন্যান্যদের মধ্যে এই দলে ছিলেন ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক তারকা সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল মুশফিকের নেতৃত্বে দলটি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে সমর্থ হয়।

২০০৬ সালের জিম্বাবুয়ে সফরে মুশফিক আবার জাতীয় দলে সুযোগ পান। ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিক দলে ডাক পান। ২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপে অনবদ্য ৭১ রানের ইনিংসের জন্য বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৯ এর জিম্বাবুয়ে সফরে মুশফিক বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হন। তৎকালীন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় সাকিব তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং সহ-অধিনায়ক সাকিবের দায়িত্ব পান মুশফিক। ২০১০ এর ২১ জানুয়ারী ভারতের বিরুদ্ধে হোম সিরিজের প্রথম টেস্টের পঞ্চম দিনে মুশফিক তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। মাত্র ১১২ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি বাংলাদেশের দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক হন।

মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশ জাতীয় দলের টেস্ট খেলায় অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। সেপ্টেম্বর ২০১১ থেকে রহিম জাতীয় দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তথা সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হিসেবে কৃতিত্ব অর্জন করেন।

মুশফিকুর রহিম প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করেন। ৩২১টি বল মোকাবিলা করে ২২ চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ২০০ রান করেন। ২০১৩ শ্রীলঙ্কা সফরে তিনি এই রেকর্ডটি করেন। তিনি ৮ম উইকেট-রক্ষক যিনি টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন এবং ৯ম ব্যাটসম্যান যিনি টেস্টে ৬ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিশতক করার মাধ্যমে ইতিহাসের প্রথম উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দুইটি দ্বিশতক করার রেকর্ড গড়েন মুশফিক। এছাড়া প্রথম বাংলাদেশি হিসেবেও দুইটি দ্বিশতকের রেকর্ড তার।

টেস্ট ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত ৭০ ম্যাচ খেলে ৩৬.৭৭ গড়ে করেছেন ৪৪১৩ রান। তিন ডাবল সেঞ্চুরি ছাড়াও শতরান করে ব্যাট উঁচিয়েছেন আরো ৪ বার। এছাড়া তার ব্যাট থেকে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস এসেছে মোট ২১টি। ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলেছেন ২১৮টি ম্যাচ। একদিনের ক্রিকেটেও এখনও পর্যন্ত হাঁকিয়েছেন টেস্টের সমান ৭টি সেঞ্চুরি। তবে আরও দুইবার তিনি আউট হয়েছেন ৯৮ ও ৯৯ রানে। সবমিলিয়ে ৩৬.৩১ গড়ে করেছেন ৬১৭৪ রান, ফিফটি মোট ৩৮টি।

টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে সে তুলনায় খানিক নিষ্প্রভই বলা যায় মুশফিকের ব্যাটকে। এখন পর্যন্ত ৮৬ ম্যাচে ২০.০৩ গড়ে করেছেন ১২৮২ রান, নামের পাশে রয়েছে মাত্র ৫টি ফিফটি। সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফিতে করা ৭২ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস।

দেশের ক্রিকেটে গত এক যুগের সকল উত্থানপতনের সাক্ষী তিনি। শুধু তাই নয়, মুশফিকের ব্যাট ধরেই অনেক সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। সকলের প্রত্যাশা আরও বেশ কয়েকবছর জাতীয় দলকে সার্ভিস দিয়ে যাবেন এ নির্ভরতার প্রতীক। তার জন্মদিনে জাগোনিউজের পক্ষ থেকে সেই শুভকামনাই থাকবে।

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে