আইপিএলে এবার যা যা থাকছে

0
24


আইপিএলে এবার যা যা থাকছে

করোনা ভাইরাসের কারণে এবার মার্চে ঘরের মাঠে আইপিএল আয়োজন করার সাহস পায়নি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। তাই বলে হাত গুটিয়ে বসে ছিল না সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বাধীন বিসিসিআই। অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে অবশেষে আরব আমিরাতে আইপিএল আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে বোর্ড। মরুভূমির দেশটিতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কম হওয়ার কারণে দুবাই, শারজা, আবুধাবির তিনটি মাঠে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ নভেম্বর চলবে জনপ্রিয় এ টি-টোয়েন্টি টুনামেন্ট। ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) শিরোনামে ১৬ পৃষ্ঠার বিশদ নিয়মকানুন প্রকাশ করেছেন সৌরভ গাঙ্গুলিরা।

বিসিসিআইয়ের এসওপি হাতে আসার পরই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কাজ শুরু করে দিয়েছে। ইতোমধ্যে দলগুলো ভারতীয় ক্রিকেটারদের কোয়ারেন্টাইন শুরু করে দিয়েছে। পাশাপাশি খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের করোনা পরীক্ষার আয়োজনের প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে।

তাছাড়া এবার করোনার কারণে আইপিএলের ১৩তম আসর আয়োজন করা হবে অনেক নিয়মের বেড়াজালের মধ্যে। যা শুনলে চোখ কপালে উঠে যাবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। ভারতীয় এবং বিদেশি সব ক্রিকেটারকে চার্টার্ড বিমানে করে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে আয়োজক দেশ আরব আমিরাতে। যেহেতু বিভিন্ন দেশ থেকে ক্রিকেটাররা অংশ নেন জনপ্রিয় এ টুনামেন্টে, তাই বেশ কিছু কঠিন নিয়ম মানতে হবে সব খেলোয়াড় ও ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। তবে কোহলি-রোহিতদের জন্য খুশির খবর হলো স্ত্রী-সন্তাদের সঙ্গে রাখতে পারবেন।

কিন্তু এ আনন্দের পাশেও কিছু নিয়মকানুন জুড়ে দিয়েছে বিসিসিআই। অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে হোটেল থাকলেও সঙ্গিনীরা টিমবাসে কেউ যেতে পারবেন না। এমনকি খেলোয়াড় বা তার পরিবারের কেউ যদি আয়োজকদের বেঁধে দেয়া নিয়মকানুনের লঙ্ঘন করেন, তাহলে সেই খেলোয়াড়কে আইপিএলের কোড অব কন্টাক্ট নিয়মের আওতায় যথাযথ শাস্তি দেয়া হবে।

এবার আমিরাতে আইপিএল খেলতে যাওয়ার আগে ৬০ বছরের বেশি কোনো সাপোর্ট স্টাফ, আম্পায়ার, গ্রাউন্ড স্টাফ এবং এমন সব ব্যক্তি যারা শারীরিকভাবে অন্য নানা জটিলতায় ভুগছেন তাদের দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সব খেলোয়াড় ও টিম স্টাফদের অন্তত ৫টি বাধ্যতামূলক কোভিড-১৯ পিসিআর টেস্ট করাতে হবে। এরপর টুর্নামেন্ট চলাকালীন ৫ দিন পরপর হবে করোনা টেস্ট। প্রতিদিন দেহের তাপমাত্রা মাপার পাশাপাশি দিতে হবে স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নের উত্তর। এসব কিছু স্বাভাবিক থাকলেই দলের সঙ্গে থাকতে পারবেন যে কোনো খেলোয়াড়। তা না হলে আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেয়া হবে সেই খেলোয়াড়কে।

ম্যাচের দিনের নিয়মে বলা হয়েছে, যদি দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সব প্রশ্নের উত্তর সন্তোষজনক হয়, তবেই খেলার অনুমতি পাবেন খেলোয়াড়রা। সব ক্রিকেটার অনুশীলন এবং ম্যাচের দিন হোটেল থেকেই যথাযথভাবে ট্রেনিং বা ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হয়ে আসতে হবে। যাতে করে ড্রেসিংরুমের সময়টা কমানো যায়। ক্রিকেট কিটগুলো প্রতিবার যাত্রার পর পুরোটা গুছিয়ে ব্যাগে রাখতে হবে এবং নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় এমন একটি জায়গায় রাখতে হবে।

করোনার কারণে টসের সময় কাগজে লেখা ক্রিকেটারদের তালিকা দেয়া হবে না। নতুন নিয়মে ইলেকট্রনিক টিমলিস্ট চালু করার কথা ভাবছে বিসিসিআই। টস করতে হবে দূরত্ব মেনে এবং চিরকালের প্রথা মেনে টসের আগে বা পরে করমর্দনও করা যাবে না। এমনকি মাঠে কোনো ম্যাসকট ঢুকতে পারবে না। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেমন লালার ব্যবহার নিষিদ্ধ, তেমনি আইপিএলেও বলে লালা লাগাতে পারবেন না খেলোয়াড়রা। ডাগআউটে বসার সময় মানতে হবে সামাজিক দূরত্ব এবং সবাইকে পরতে হবে ফেস মাস্ক। শুধু খেলোয়াড় এবং ম্যাচ অফিসিয়াল মাস্ক না পরেও মাঠে নামতে পারবেন।

পিআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে