কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন টাঙ্গাইলের জাহালম

0
72

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: বিনা অপরাধে তিন বছর কারাভোগের পর রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন পাটকল শ্রমিক জাহালম ওরফে জানে আলম (২৮)। সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি এ কারাভোগ করেন। কারাগারের ফটক থেকে মুক্ত ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রাতেই টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন জাহালমের ভাই শাহনুর।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান, এ কারাগারে বন্দি জাহালম ওরফে জানে আলমকে হাইকোর্টের নির্দেশে রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে তাকে দেওয়া আদালতের মুক্তির আদেশ মহা-কারাপরিদর্শকের দফতরের মাধ্যমে রাত ১২টা ৫মিনিটের দিকে কাশিমপুরের এ কারাগারে পৌঁছে। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার জাহালমকে মুক্তির ওই আদেশ দেন।

টাকা জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের মামলায় তাকে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয়। এরপর ওই বছরের ২৭ মে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে এ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তিনি টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ধুবরিয়া এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে। জাহালম ওরফে জানে আলম পেশায় পাটকল শ্রমিক। কারাগার থেকে মুক্তির সময় তার ভাই শাহনুর মিয়া কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন।

সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা দায়ের করে দুদক। এই অভিযোগে দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার কথা জানিয়ে চিঠি যায় জাহালমের টাঙ্গাইলের বাড়ির ঠিকানায়। চিঠি পেয়ে প্রায় ৫ বছর আগে দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে জাহালম বলেছিলেন, তিনি মামলার আসামি সালেক নন, তার নাম জাহালম। এ সময় জাহালম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। কিন্তু সেদিন নিরীহ পাটকল শ্রমিক জাহালমের কথা দুদকের কেউ বিশ্বাস করেননি। দুদকের ভুলের কারণে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আসামি সালেকের বদলে গ্রেফতার হন জাহালম। এরপর দুদকের ওইসব মামলায় সালেকের বদলে তিন বছর কারাগারে বন্দি জীবন কাটাতে হয়েছে টাঙ্গাইলের নির্দোষ জাহালমকে। কারাবন্দি জাহালম বহুবার আদালতে হাজিরা দিলেও তার জামিন মেলেনি। ইতোমধ্যে দুদকের ৩৩টি মামলার মধ্যে ২৬টি মামলায় জাহালমকে আসামি আবু সালেক হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এসব মামলায় বিচারিক আদালতে বিচার শুরু হয়।

দুদকের মামলায় প্রকৃত আসামি আবু সালেকের স্থলে নির্দোষ শ্রমিক জাহালম কারাগারে বন্দি থাকার বিষয়ে গত ৩০ জানুয়ারি বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। পরে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। এরপর আদালত রবিবার জাহালমকে দুদকের ২৬ মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দিয়ে বলেন, কোনও নির্দোষ ব্যক্তিকে এক মিনিটও কারাগারে রাখার পক্ষে আমরা নই। জাহালমের কারাগারের মেয়াদ একদিন বাড়বে, তো আপনার (দুদক) ওপর কমপেনসেশন (ক্ষতিপূরণ) বাড়বে। কমপেনসেশন করতে হবে। দুদক করেন বা ব্যাংক করেন। আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার রাতে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন জাহালম ওরফে জানে আলম।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি ২৬  মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে থাকার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও মামলার বাদীসহ চারজনকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, মামলার বাদী, স্বরাষ্ট্র সচিবের একজন প্রতিনিধি ও আইন সচিবের একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থেকে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। এ বিষয়ে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন উপস্থানের পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিচারপতি নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে