খালেদার ধারালো দাঁতের কারণে মুখে ঘা , চলছে চিকিৎসা

0
44

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: ভাঙা দাঁতের ধারালো শেকড়ের কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জিবে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতে তাকে দাঁতের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একে মাহবুবুল হক সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুখের উপরের মাড়ির দু’টি দাঁতে ইরিটেশন হচ্ছিল। সেজন্য তিনি আনইজি ফিল করছিলেন। এতে তার জিবে ছোট আকারে ঘা হয়েছে। সেটার ট্রিটমেন্ট দেওয়ার জন্য আজ তাকে ডেন্টাল বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে আধা ঘণ্টাব্যাপী চিকিৎসা দিয়ে তার দাঁতের সমস্যাটাকে দূর করে দেওয়া হয়।

খালেদা জিয়া চার মাস ধরে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তিনি কেমন আছেন? প্রশ্ন করা হলে পরিচালক বলেন, তার চিকিৎসা চলছে। আমাদের মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা করছে। আমি বলতে চাই গ্রেজুয়াল ইম্প্রভিং। আমি আগেও বলেছি, দীর্ঘস্থয়ী রোগ ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিস থেকে ১০০ ভাগ ভালো করা ডিফিকাল্ট। এসব মিরাক্যালি ভালো হয়ে যাবে, সেটাও নয়।

‘আমি বলবো, তিনি ভালো আছেন। আপনারা দেখেছেন উনাকে। উনাকে দেখে কী মনে হয়েছে উনি খুব বেশি অসুস্থ? উনি ভালো আছেন। ইনশাল্লাহ উনার অবস্থা ইম্প্রভিং, কমফোর্টেবল আছেন। আগে যেভাবে এসেছিলেন, তার চেয়ে বেটার, ডেফিনেটলি বেটার আছেন।’

দন্ত সংরক্ষণ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, আমি আজকে তাকে এক্সামিন করি। আমি দেখলাম তার কয়েকটা ভাঙা দাঁতের শেকড় রয়ে গেছে। জিবে যে জায়গাটায় ঘা ছিল, এ থেকে আরেকটা জায়গায় ছোট একটা ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং তার কারণটা হলো উপরের সাত ও আট নম্বর ভাঙা দাঁতের শেকড় ছিল। শেকড়গুলো ধারালো ছিল। আমরা সেই দু’টি দাঁতের শেকড় সমান করে দিয়েছি। গ্রাইন্ডিং ও স্মোথ বা পলিশিং করে দিয়েছি।

‘অন্য দাঁতগুলো ভালো আছে। আমার বিশ্বাস, জিবের ক্ষতটা চলে যাবে। ম্যাডামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেছেন, হ্যাঁ, আমার এখন আর কোনো সমস্যা নেই।

শনিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে কেবিন ব্লক থেকে হুইল চেয়ার এবং মাইক্রোবাসে করে হাসপাতালের ‘এ’ ব্লকে ডেন্টাল বিভাগে নেওয়া হয় দাঁতের চিকিসার জন্য। দন্ত সংরক্ষণ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শামসুল আলম তার চিকিৎসা দেন। এ সময় ম্যাক্সিলারি সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী বিল্লুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। মূলত বিল্লুর রহমান প্রথম খালেদা জিয়াকে দেখেন। এরপর অধ্যাপক শামসুল আলমের কাছে রেফার করা হয়। দুপুর ২টা ২৬ মিনিটের দিকে তাকে আবার হাসপাতালের ৬২১ নম্বর কেবিনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদশের (ড্যাব) বিএসএমএমইউ শাখার সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়ার নানাবিধ সমস্যা। দাঁতের সমস্যা, জিবে ঘা। তিনি হাঁটতে পারছেন না, দুইজনের সাহায্য নিতে হচ্ছে। ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, তার সর্বোচ্চ চিকিৎসা যেনো দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আমরা ডাক্তার হিসেবে দূর থেকে যতটুকু দেখেছি, ম্যাডাম অত্যন্ত অসুস্থ। উনার আরও ভালো ও উন্নত চিকিৎসা দরকার। এজন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, তার সুচিকিৎসার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ সময় ড্যাব নেতা অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম সেলিম, আনম মনোয়ারুল কাদির বিটু, এহতেশামুল হক তুহিন, সাইফুদ্দিন নেসার আহম্মেদ তুষার, রেজাউল আলম, কামরুজ্জামান মিন্টু, শাকিল আহম্মেদ, ইয়াহিয়া খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে