সখীপুরে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান হায়েত আলীর বেঁচে যাওয়া দুই সন্তান

0
38

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ৭১’র ৫ ডিসেম্বর কাদেরিয়া বাহিনীর ১১ নম্বর সেক্টরের ভ্রাম্যমাণ ক্যান্টনমেন্টের গোলাবারুদ গোডাউনে বোমা বিষ্ফোরণে হায়েত আলীসহ পরিবারের ৯ সদস্যের ৭জন নিহত হন। বোমার আঘাতে খন্ডবিখন্ড হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের দেবলচালা গ্রামের হায়েত আলীর স্ত্রী জয়মন বেগম (৩৫), বড় ছেলে আবু হানিফ মিয়া (২২),মেয়ে আমেলা আক্তার(১৮),মেয়ে আবেদা সুলতানা (৫), হায়েত আলীর ছোট বোন ময়জান বেগম (৩৬), তার মেয়ে মরিয়ম আক্তার (৩)। বোমার স্প্রিন্টারে গুরুতর আহত হন হায়েত আলী (৪০)এবং তার অপর মেয়ে বাছাতন নেছা (৭)। বোমার স্প্রিন্টারে ক্ষতবিক্ষত হায়েত আলী চিকিৎসার অভাবে এর সপ্তাহ খানেক পরই মারা যান ।

স্প্রিন্টার শরীরের নিয়ে বেঁচে রইল ৭ বছরের শিশু মেয়ে বাছাতন নেছা। আরেক ছেলে মোহাম্মদ আলী ঘরের বাইরে থাকায় সেও বেচে গেলো । দেশ স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও ওই পরিবারটি না পেয়েছে কোন মৃক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পেয়েছে কোন সরকারি অনুদান। বাবা-মা, ভাই বোনসহ পরিবারের ৭ সদস্যকে হারিয়ে প্রায় বাকরুদ্ধ মোহাম্মদ আলী ও বাছাতন নেছা। বোমায় ক্ষত বিক্ষত শরীর আর স্পিন্টারের ব্যাথা নিয়ে আজোও গুমরে গুমরে কেদে ওঠেন বাছাতন নেছা।

তাদের একটাই দাবি দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৮ বছর। আর এ স্বাধীনতার জন্যই বাবা-মা ভাই বোনসহ পরিবারের ৭জনকে হারিয়েছি। এখন সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য শহীদদের বা জীবিততের কোন স্বীকৃতি দেননি। শহীদ হায়েত আলীর বেঁচে যাওয়া দুই সন্তানও পাননি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বা সম্মাননা। তাদের আক্ষেপ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার বার বার ক্ষমতায় আসলেও আজও নজরে পড়েনি ওই পরিবার।

জানা যায়, ওই ১১ নম্বর সেক্টরের ভ্রাম্যমাণ ক্যান্টনমেন্টের গোলাবারুদ গোডাউনে পাহাড়াদার ছিলেন কালিয়া ইউনিয়নের আক্কাছ আলী, জহিরুল ইসলাম এবং বাছেদ উদ্দিন। আর রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বে ছিলেন- গড়গোবিন্দপুর এলাকার মিয়া মোতালেব এবং মো. খলিলুর রহমান। এরা সবাই ওই ঘটনার জ্বলন্ত স্বাক্ষী। এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মোতালেব, বাদশাহ মিয়া, আনিসুজ্জামান এসএম এ মোত্তালিব একই সুরে শহীদ হায়েত আলী পরিবারের বেঁচে যাওয়া দুই সন্তান বাছাতন ও মোহাম্মদ আলীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি করেন।

এ বিষয়ে ৭১ এ ১১নং সেক্টরের কাদেরিয়া বাহিনীর ১৫নং কোম্পানী কমান্ডার ছিলেন মো. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন- ৭১এ ৯ মাস যুদ্ধকালীন সময়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ভ্রাম্যমাণ ক্যান্টনমেন্টের সকল গোলাবারুদের গুপ্ত গোডাউন ছিল হায়েত আলীর ঘর। ওই গোডাউন থেকেই প্রয়োজন মত গোলা বারুদ বিভিন্ন রনাঙ্গণে পাঠানো হতো। যুদ্ধ শেষে ৫ই ডিসেম্বর ওই গোডাউনে গচ্ছিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা করার সময় একটি বোমা বিষ্ফোরণ ঘটে। এতে হায়েত আলীসহ তার পরিবারের ৭জন সদস্য শহীদ হন।

তাদের খন্ড বিখন্ডিত দেহ একত্র করে আমরা বাড়ির সামনেই একই কবরে সমাহিত করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তিনি বেচে যাওয়া শহীদ হায়েত আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী ও মেয়ে বাছাতন নেছাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি এবং ওই পরিবারের প্রতি সরকারি অনুদান প্রার্থনা করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে