ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

0
20

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে রাস্তার পাকা করে দেয়ার কথা বলে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে ঘুষের টাকা ফেরত চেয়ে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা যায়, তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) ইসমাইল হোসেন উপজেলায় প্রায় দশ বছর কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে তিনি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রাস্তা পাকাকরন করে দেয়ার অজুহাতে বিভিন্ন সময় প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন। গত বছরের (২০১৮) সালে দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগ তাকে ডিমোশন দিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জামালপুরে বদলী করেন। একই বছরের নানানভাবে তদবীর করে তাড়াশে এসে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন এই কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী ও লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন তাড়াশে থাকাকালীন বিভিন্ন রাস্তা পাকাকরন করার অযুহাতে বিভিন্ন সময় এলাকার লোকজনের কাছে থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাছাড়া উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল থেকে লাউশন পর্যন্ত সড়ক পাকা করনের টেন্ডার হওয়ার পরেও ইসমাইল হোসেন ওই এলাকার লোকজনের কাছে থেকে একলাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

এদিকে উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জ্ঞানেদ্রনাথ বসাক নিউজ টাঙ্গাইলকে জানান,উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন উপজেলার গুড়পিপুল পাকা সড়ক থেকে ধলাপাড়া (আইডিনং ১৮৮৮৯৪০৩৯) গ্রামটি একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। ওই সড়কটি পাকা না হওয়ার কারনে দীর্ঘদিন যাবত তাদের গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের চরম ভোগান্তি। তাই ইসমাইল হোসেনের সাথে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে গেলে তৎকালীন উপসহকারী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন সড়কটি পাকা করে দিবে বলে এক লাখ টাকা দাবী করেন। পরে উপায়ন্তর না পেয়ে তাকে ১ লাখ টাকা দেওয়া হলেও আজ অবধী সড়কটি পাকাকরন হয়নি।

অপর দিকে, উপজেলার তাড়াশ- নওগাঁ আঞ্চলিক সড়ক থেকে ঘরগ্রাম পূর্বপাড়া ওয়াবদাবাধ গাজী ম.ম আমজাদ হোসেন সড়ক চেইনেজ ( আইডি নং ০০-১১৫০) সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত পাকা না হওয়ায় গ্রামের লোকজন খুব কষ্টের মধ্য যাতায়াত করেন। এমতাবস্থায় তাড়াশ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন ওই সড়কটি পাকা করে দেয়া হবে বলে জানান। এরপর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালককে দুই লক্ষ টাকা দিলে কাজটির জন্য বরাদ্দ দেয়া যাবে বলেন।

একই ইউনিয়নের মান্নাননগর রাস্তা হতে আমবাড়িয়া গ্রাম পর্যন্ত পাকাকরন করার কথা বলে ২লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানান ওই গ্রামে লুৎফর রহমান। কিন্ত দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও কাজ না হওয়ায় তাকে টাকা ফেরত চাইলে তিনি টাকা ফেরত দেবে না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী ঘরগ্রামের সুজন সরকার, আবু তাহের ও রফিকুল ইসলাম জানান, তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন বিভিন্ন সময় প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে কাজ করার কথা বলে কাজ করেননি। তাই আমাদের দেয়া ঘুষের দুই লাখ ফেরত পেতে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি।

অভিযুক্ত তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পিআরএল) রত ইসমাইল হোসেন অভিযোগের বিষয়ে বলেন, তাড়াশে র্দীঘদিন ছিলাম। অবহেলিত এলাকায় বিভিন্ন গ্রামে কাচা রাস্তা ছিল। সেগুলো রাস্তার বিষয়ে বিভিন্ন অফিসে তদবীর করে কাজ করতে হয়েছে। তদবীর করতে পয়সা লাগে। তাতে এলাকার উন্নয়ন হয়েছে। তাছাড়া আমি এখন এলপিআরে আছি।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ আলী জানান, (পিআরএল) ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে উদ্ধতর্ন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে