সখীপুরে ৯ খুণের আসামি বাবু শেখ গ্রেফতার ! খুন করাই যার নেশা

0
37


নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের সখীপুরে  বৃদ্ধা সমেলা ভানু (৫৭) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নওগাঁ জেলার বাসিন্দা বাবু শেখ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলে গত ২০ নভেম্বর নাটোর আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে বাবু শেখ টাঙ্গাইলের সখীপুরের সমেলা হত্যার দায় স্বীকার করে। বাবু শেখের নেতৃত্বে একটি খুনি চক্র টাঙ্গাইলের সখীপুর ও মির্জাপুরে দুজন বৃদ্ধাসহ আরও দুই জেলায় নয়জন নারীকে খুন করে। সখীপুর থানা পুলিশ নাটোর থেকে আসামি বাবু শেখকে তিন দিনের রিমান্ডে এনে বুধবার সকালে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। বাবু শেখ টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতেও সমেলা ভানুসহ সারা দেশে নয়জন নারীকে খুন করার কথা স্বীকার করে। বাবু শেখ ওরফে কালু নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার হরিশপুর গ্রামের জাহের আলীর ছেলে।

সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এএইচ এম লুৎফুল কবির বুধবার বিকেলে জানান, গত ৯ জুলাই রাতে উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের আমড়াতৈল গ্রামের মৃত বাবর আলীর স্ত্রী সমেলা ভানু খুন হন। সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে শ্বাসরোধ করে ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়। বাবু শেখ ও সহযোগী ডাবু মিলে ওই বৃদ্ধাকে খুন করে একটি স্বর্ণের চেইন ও পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ১০ জুলাই সমেলার ছেলে হোসেন আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা করেন।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানায়, সমেলা ভানু হত্যা কান্ডের দুই মাস পর ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে মির্জাপুর উপজেলার হরতকীতলা গ্রামের কাঞ্চু খানের স্ত্রী আরেক বৃদ্ধা রুপভানু বেগমকেও (৬০) শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন ওই বাবু শেখ। সেখান থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে পালান তিনি। বাবু শেখ পুলিশের কাছে স্বীকার করেন দুই খুনে নওগাঁ এলাকার গোলাম রসুল ওরফে ডাবুকে সে সঙ্গে নিয়েছে। টাঙ্গাইলের এ দুটি খুনে ঘরে সিঁধ কেটে ঢোকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সখীপুর থানার ওসি (তদন্ত) এএইচএম  লুৎফুল কবির আরও বলেন, সখীপুরের সমেলা ভানুর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইনটি বাবু শেখ গাজীপুর মহানগর এলাকার গাছা থানার স্বর্ণপট্রিতে কামরুল নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। এ পর্যন্ত আটবার তিনি কামরুলের কাছে চুরি করা সোনার গহেনা বিক্রি করেছেন। চুরির মাল ক্রয় করার অপরাধে পুলিশ কামরুলকে গ্রেপ্তার করে বাবু শেখের সঙ্গে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
বাবু শেখ দাবি করেন, রানীনগর থানার এক ইউপি চেয়ারম্যান তাঁকে একটি খুনের মিথ্যা মামলায় আসামি করেন। এরপর থেকে নওগাঁ থেকে সে পালিয়ে নাটোর আসেন। কাজকর্ম না থাকায় গ্রামে ঘুরে ঘুরে মাছ শিকার ও চুরি করেন। চুরি করতে গিয়ে নারী ধর্ষণ ও খুনের নেশায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। বাবু শেখ আরও বলেন, আমি ভুল বুঝতে পেরেছি। আমাকে ভালো হওয়ার সুযোগ দিলে আমি ভালো হয়ে যাবো।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন  বলেন , বাবু শেখের খুন করাই যেন নেশা। বেশিরভাগ খুনই করেছেন রাতের বেলায় ঠান্ডা মাথায়। গত ছয় বছরে সে নয়জন নারীকে খুন করেছেন। হত্যা করার আগে ছয়জন নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে তিনি  আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদিকে টাঙ্গাইল আদালতেও সমেলা হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বাবু শেখ।



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে