হলি আর্টিজান হামলা মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজন খালাস

0
25


নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: ২৭ নভেম্বর বুধবার হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায় হয়েছে। রায়ে ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম সরোয়ার খান জাকির গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।

এ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত পাড়াসহ রাজধানী ও সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সেদিন যা ঘটেছিল : ২০১৬ সালের ১ জুলাই। এ রাতেই রাজধানী ঢাকার অভিজাত গুলশান-২ এলাকায় হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। রমজান মাসের রাত। ঝিরঝির বৃষ্টি পড়ছিল। গুলশানসহ আশপাশের এলাকায় তখন এক ভুতুড়ে পরিবেশ। থমথমে চারদিক। মাঝেমধ্যে গর্জে উঠছিল গুলি ও গ্রেনেড। বিকট আওয়াজে প্রকম্পিত হচ্ছিল পুরো এলাকা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য বিভিন্ন পয়েন্টে কড়া অবস্থান নেন।

এরই মাঝে দুজন পুলিশ কর্মকর্তা এসি রবিউল করিম ও ওসি সালাহউদ্দিন নিহত হওয়ার খবর জানাজানি হয়। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা চরমে। তার মাঝেই ওই হলি আর্টিজানে জঙ্গিদের জিম্মিদশায় থাকাদের আর্তনাদে বাইরের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছিল। রাতের কোনো এক পর্যায়ে জঙ্গিরা হলি আর্টিজানে ২০ জনকে হত্যা করে। যাদের মধ্যে ৯ জন ইতালিয়ান নাগরিক, ৭ জন জাপানি, ৩ জন বাংলাদেশি এবং ১ জন ভারতীয় নাগরিক। এ ছাড়া অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের হামলায় দুজন পুলিশ কর্মকর্তাও প্রাণ হারান। এভাবে রাত গড়িয়ে ভোর হয়। থমথমে চারদিক। পুলিশ ও র‌্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা সারা রাত সেখানেই পার করেন। এর মাঝেই যুক্ত হয় সশস্ত্র বাহিনী। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় কমান্ডো অপারেশন পরিচালনার।

অপারেশনের নাম দেওয়া হয় ‘থান্ডারবোল্ট’। পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে হামলাকারী ৫ জনও প্রাণ হারায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। যাকে পরবর্তী সময়ে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর কর্মচারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। পৃথিবী জুড়ে আলোচিত জঙ্গিদের এই হত্যাযজ্ঞের তদন্ত শেষে গত বছরের ২৩ জুলাই আট জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, হলি আর্টিজান হামলার পর দেশজুড়ে জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরের দুই বছরে ১৮টি অভিযানে মারা যায় ৭৯ জঙ্গি। গ্রেফতারও হয় অনেকে। এসব অভিযানে আপাতত সাফল্য পাওয়া গেছে। জঙ্গিরাও কিছুটা কোণঠাসা।

গুলশান হামলায় জড়িতরা : পুলিশ জানিয়েছে, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলার তদন্তে ঘটনার সঙ্গে মোট ২১ জন জড়িত ছিল। এর মধ্যে ঘটনার দিন ও পরে মোট ১৩ জনই বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে। বাকি ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এই হামলার ঘটনার পর আটক হওয়া ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। হলি আর্টিজানে হামলাকারীরা সবাই উচ্চশিক্ষিত, ধনী পরিবারের সন্তান ছিল।

চার্জশিটে যাদের অভিযুক্ত করা হয় : চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলো রাকিবুল হাসান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাশেদুল ইসলাম, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, মামুনুর রশীদ রিপন ও শরীফুল ইসলাম খালেদ।

অন্য অভিযানে নিহত আটজন হলো : তামিম চৌধুরী, মারজান, সারোয়ার জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান, তানভীর কাদেরী, তারেক রায়হান ও ছোট রায়হান।

অপারেশন থান্ডারবোল্ডে নিহত জঙ্গিরা : রোহান ইমতিয়াজ, খায়রুল ইসলাম পায়েল, সামিউল মোবাশ্বির, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ও নিবরাস ইসলাম।

হলি আর্টিজান কেন টার্গেট : পুলিশ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেছেন, গুলশান হামলার আগেই জঙ্গিরা আরও কয়েকটি জায়গা রেকি করেছিল। কিন্তু তাদের হিসাবে দেখেছে হলি আর্টিজানে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলতে তেমন কিছু ছিল না। দ্বিতীয়ত এ জায়গা থেকে তাদের হামলা শেষে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার সুবিধা হবে। এ ছাড়া এখানে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি একসঙ্গে পাওয়া যাবে। এসব কারণেই ঘটনার দুই থেকে তিন দিন আগে তারা হলি আর্টিজানকে হামলার জন্য চূড়ান্ত করে।



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে