জীবনের শেষ প্রোগামে “এন্ড্রু কিশোর রেখে গেলেন শিষ্য রবি কিশোর”

0
28


জীবনের শেষ প্রোগামে “এন্ড্রু কিশোর রেখে গেলেন শিষ্য রবি কিশোর”

ফরমান শেখ, নিজস্ব প্রতিবেদক: রবিউল ইসলাম। এন্ড্রু কিশোরের মত কণ্ঠে গান গাওয়ায় তার নাম হয় রবি কিশোর। আর এই রবি কিশোর ছোট থেকে দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের খুব ভক্ত ছিলেন। পড়াশনার পাশাপাশি এন্ড্রু কিশোরের গানের সুরের সাথে তিনি মিশে যান। একের পর এক তার কণ্ঠে এলাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করতো। এলাকার সঙ্গীত প্রিয় মানুষদের কাছে এই রবিউল হয়ে হয়ে এন্ড্রু কিশোরের দেওয়া নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে রবি কিশোর।

এন্ড্রু কিশোরের গানের সুরে আর এলাকার মানুষদের ভালবাসায় রবি কিশোরের তার গানের প্রতি উৎসাহ বাড়তে থাকে। সে থেকেই গানকে ভালবেসে গানের প্রতি মায়ার বাঁধনে আটকে যান। মনের আকুলতা বাড়তে থাকে প্রিয় শিল্পীকে এক নজর দেখার জন্য। আকুলতার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে সে নিজেই এন্ড্রু কিশোরের ঠিকানা সংগ্রহ করেন। এরপর থেকে প্রিয় শিল্পীর সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করতো।

রবি কিশোর জানান, আমি এক কৃষক পরিবারের সন্তান। আমার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুরের ইউনিয়নের উত্তর মান্দিয়ায়। পরিবারের দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে আমি বড়। গানের জগতে গুরু এন্ড্রু কিশোর ছিলেন আমার প্রিয় একজন ব্যক্তি। ছোট থেকেই তার গান ভাল লাগতো। সে থেকেই আমার গুরুর গানের সুরে আমি গান করতাম। ২০১৩ সালের বাংলাদেশ আইডল রিয়ালিটি শো নামে একটি প্রোগামে গুরু এন্ড্রু কিশোর আমাকে তার স্বাক্ষরিত একটি মগ পুরস্কার দিয়েছিলেন।

রবি কিশোরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, গুরু এ্যান্ড্রূ কিশোর আমাকে খুব আদর স্নেহ করতেন। তার সাথে আমি বিভিন্ন প্রোগামে নিয়মিত যোগদান করতাম। গুরু আমাকে ভালবেসে ডাকতেন রবি কিশোর নামে। সে থেকেই নামের উপাধি হয় রবি কিশোর। তিনি দাবি করে বলেন- গুরুর জীবনের শেষ প্রোগামটা ছিল আমার পাশের উপজেলার ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত জনপ্রতিনিধিদের এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। প্রোগামটা ছিল ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল। আমার ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ছুটে আসেন এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।

তিনি জানান, সে প্রোগামে গুরু বলছিল রবি কিশোর আমার শিষ্য। আমার গাওয়া গানগুলো এই রবি নামে আমার শিষ্যের মাঝে পাবেন। আমি রবিকে এজন্য বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করব। এরপর প্রোগাম শেষে তিনি রাতেই তার ঢাকার মিরপুরে বাসায় চলে যান। তার কিছু দিন পর থেকেই গুরু অসুস্থ হয়ে পড়েন।

রবি বলেন, গুরু আজ আমাদের মাঝে নেই। তাকে শ্রদ্ধা সাথে স্মৃরণ করছে জাতি। গুরুর কথাগুলো বর্তমানে স্মৃতি। যা মানুষের মনের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকবে। গুরুর গাওয়া গানকে আমি মানুষের মাঝে গুরুকে ফুটিয়ে তুলব।

প্রসঙ্গত প্রকাশ, শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের জন্ম ৪ নভেম্বর, ১৯৫৫ সালে রাজশাহীতে। সেখানেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। এন্ড্রু কিশোর প্রাথমিকভাবে সংগীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। একসময় গানের নেশায় রাজধানীতে ছুটে আসেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুল সংগীত, আধুনিক গান, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।

দেশবরণ্যে ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ খ্যাত গায়ক এন্ড্রু কিশোর দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগছিলেন। দেশের বাইরে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। রাজশাহীতে তার বোনের বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ০৬ জুলাই সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে