ধূমপানে শারীরিক ও ধর্মীয় ক্ষতি

0
8

ধূমপানে কেবল ব্যক্তির শারীরিক ক্ষতি নয়; এটি একটি সামাজিক ব্যাধিও। আল্লাহ মানুষের জন্য যা কল্যাণকর, পবিত্র, উত্তম ও উপাদেয় তা গ্রহণীয় আর যা অকল্যাণ, অপবিত্র, ক্ষতিকর ও অনুপাদেয় তা বর্জনীয় হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পবিত্র বস্তু থেকে তোমাদের যা জীবিকা হিসেবে দিয়েছি, তোমরা তা আহার করো।’

(সুরা তাহা : ৮১)

বিড়ি-সিগারেট কেবল নিজে জ্বলে না, অন্যদেরও জ্বালায়। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি জ্বলন্ত সিগারেট থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ১২ হাজার রসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়, যার কোনোটিই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। এক টুকরা পরিচ্ছন্ন কাগজে মোড়ানো সিগারেট আকর্ষণীয় হলেও আসলে তা উগ্র নিকোটিনের বিষে ভরা। নিকোটিন শরীরের রক্তনালিকে সংকুচিত করে ফেলে, ফলে রক্ত চলাচলের স্বাভাবিক গতি বাধাপ্রাপ্ত হয়।

তামাকের অন্যতম উপাদান ক্যাডমিয়াম ধোঁয়ার সঙ্গে ফুসফুসের ভেতরে জমে থাকে, ফলে ফুসফুসের সংকোচন ও প্রসারণ ক্ষমতা কমে আসে। সিগারেটের ধোঁয়ায় ক্যানসার উদ্রেককারী যে কার্সিনোজেন থাকে, প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে আসার আগে এই কার্সিনোজেনগুলো শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর সংস্পর্শে আসে। দীর্ঘদিন এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে শরীরের টিস্যুগুলোতে ক্যানসার হওয়ার আশংকা দেখা দেয়।
অধিক ধূমপানের কারণে জিহ্বার নার্ভ কমে যেতে থাকে। রক্তে ভিটামিন সি কমে যায়। পুরুষদের বেলায় সচল শুক্রের সংখ্যা কমতে থাকে, মহিলাদের ক্ষেত্রে গর্ভস্থ সন্তানের মস্তিষ্ক বিকাশে বাধাগ্রস্ত হয় ও ওজন কম হয়। জরায়ুর সংকোচন ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে নির্ধারিত সময়ের আগে সন্তান মাতৃগর্ভ থেকে বের হয়ে আসতে পারে। এমনকি সন্তান বিকলাঙ্গও হতে পারে।
ধূমপানে যক্ষা, দন্তক্ষয়, ক্ষুধামন্দা, গ্যাস্ট্রিক-পেপটিক আলসার, ফুসফুসে ক্যানসার, হাই ব্লাড প্রেসার, হৃদরোগ, গলাব্যথা, সর্দি-কাশি প্রভৃতি মারাত্মক রোগ হয়। যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২০টি সিগারেট পান করে, তার হৃদরোগে আকিস্মকভাবে মৃত্যুর আশঙ্কা একজন অধূমপায়ী থেকে ৩ গুণ বেশি থাকে।
ধূমপান শুধু ধূমপায়ীর জন্যই বিপজ্জনক নয়, তার আশপাশে অধূমপায়ীদের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। পুড়ে যাওয়া তামাকের বিরক্তিকর ও বিশ্রি ধোঁয়া বায়ুদূষিত করে, পানি দূষিত করে এবং গোটা পরিবেশকেই দূষিত করে। ধূমপায়ীর ঘরে অধূমপায়ী নারী, শিশু ও বৃদ্ধ থাকলে তারাও সমানভাবে নিশ্বাসের সঙ্গে এই বিষ গ্রহণ করে। পবিত্র কোরআনে মহান রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না।’
(সুরা বাকারা : ১৯৫)
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ধূমপান বৈধ না অবৈধ তা কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে বিচার্য। বস্তুত ইসলাম মানুষের জন্য যা মঙ্গল, কল্যাণকর তা গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করে। আর যা ক্ষতিকর, মানুষকে ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়, তা থেকে দূরে থাকার জন্য আদেশ দেয়। পবিত্র কোরআনের আরও একটি আয়াত উল্লেখ করা যেতে পারে। ‘লোকেরা আপনাকে জিজ্ঞেস করে, তাদের জন্য কী কী হালাল করা হয়েছে? হে নবী! আপনি বলে দিন, তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে সেসব জিনিস যা পবিত্র।’ (সুরা মায়েদা : ০৪)
ধূমপান ক্ষণিকের জন্য হলেও মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। সেই সঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত ধূমপান অবশ্যই মানুষকে নেশাগ্রস্ত করে দেয়। এসব দিকের বিচারে এ কথা দৃঢ়ভাবে বলা যায়, ধূমপানের বিন্দুমাত্রও বৈধতা নেই।

না সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে, না ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। কেউ কেউ ধূমপান করে না সত্য, কিন্তু জর্দা বা তামাক চিবিয়ে খায় কিংবা হুক্কায় সুখটান দেয়, যা এর চেয়েও মারাত্মক। আসুন আমরা সময় থাকতে জীবনের জন্য সজাগ হই। তামাক-জর্দা, বিড়ি-সিগারেট তথা সব ধূমপান থেকে বিরত থাকি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে