যে পদ্ধতিতে শারীরিক সম্পর্ক হু’মকি

0
110


যে পদ্ধতিতে শারীরিক সম্পর্ক হু’মকি

স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে সারভাইকাল ক্যা’ন্সারে আক্রান্ত নারীদের সংখ্যা বিশ্বে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যান্সার সংক্রান্ত সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

তুলনামূলকভাবে উন্নত দেশের নাগরিকরা সচেতন ও উন্নত জীবনযাপনের কারণে এই রোগ থেকে নিরাপদ থাকলেও সচেতনতার অভাব নেই, এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় না। তবে উন্নত দেশে সারভাইকাল ক্যা’ন্সার সনাক্ত করার জন্য নারীরা ‘পেপস স্মেয়ার টেস্ট’ করালেও আমাদের দেশে সামাজিক ও পারিবারিক নানা কারণে এই পরীক্ষা করাতে কুণ্ঠাবোধ করেন অনেকেই।

হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)-এর আক্রমণে এই অসুখ দানা বাঁধে শরীরে। তবে এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করা ছাড়াও সারভাইকাল ক্যান্সারের আরেকটি প্রধান কারণ অসুরক্ষিত শারী’রিক সম্পর্ক। ২০ বছরের কম বয়সীদের এই রোগ সাধারণত হয় না। সাধারণত ৩৮ থেকে ৪২ বছর বয়সীরা এই রোগে আক্রা’ন্ত হয়ে থাকেন। বয়স ৬০ পার হলেও এই রোগ হতে পারে। তবে সংখ্যা তুলনামূলক কম। দীর্ঘ দিন ধরে এই ধরনের সম্পর্কের ফলে জ’রায়ু-মুখের কোষগুলো পরিবর্তিত হতে থাকে। এই পরিবর্তনই ক্যান্সার ডেকে আনে। এছাড়া এইচপিভি হানা দিলে এর কোনো বাহ্যিক চিহ্ন থাকে না।

সাধারণত শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেড় থেকে দু’বছরের মধ্যেই এই ভাইরাস থেকে শরীরকে মুক্ত করে। কিন্তু কোনোভাবে তা না করতে পারলে ক্যান্সারের শি’কার হতে হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স ১০ পার হলেই এই রোগ প্রতিহত করার টিকা নেওয়া যায়। এই অসুখ গোপন না করে বরং ধরা পড়ার পরই উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। নিয়ম মেনে চিকিৎসা করালে যেমন জ’রায়ু-মুখ ক্যান্সার সেরেও যায়, তেমনই দেরি করলে বা রোগ চেপে রাখলে তাতে প্রাণও যায়।

সারভাইকাল ক্যা’ন্সারের লক্ষণ: এই ক্যান্সারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল সীমাবদ্ধ নয়। বরং জরা’য়ুর যে কোনো অংশেই এই ক্যান্সারের আক্র’মণ লক্ষ করা যায়। সাদা বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, অনিয়মিত পি’রিয়ড, মেনোপজের পরেও হঠাৎ করেই র’ক্তপাত, তলপেটে বা কোমরে ব্যথা— ইত্যাদি সামনে এলেই সচেতন হতে হবে।

যেসব সাবধানতা অবলম্বন করবেন: পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত, সুশৃঙ্খল জীবন যাপনে জোর দিতে হবে। সুষম আহার, ভিটামিন এ, সি সমৃদ্ধ ফল, শাকসব্জি, খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে হবে।

কন্যা সন্তানের বিয়ে ১৮ বছরের আগে নয়। বাড়াবাড়ি রকমের পলিসিস্টিক ওভারি, বন্ধ্যাত্ব এ সব থাকলে সচেতন হোন।

গর্ভনিরোধক ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ইচ্ছা মতো ওষুধ নেবেন না।

পলিসিস্টিক ওভারি থাকলে তেল-মশলা এড়িয়ে খাওয়াদাওয়া করুন, সুস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হন। পিরিয়ড চলাকালীন অতিরিক্ত রক্তপাত, অস্বাভাবিক ব্যথা হলে সচেতন হোন। অধিক বা ঘন ঘন সন্তান প্রসবে রাশ টানতে হবে অবশ্যই। ধূমপান ছেড়ে দিতে হবে।



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে