ঈদ হোক আনন্দঘন……নূরুল ইসলাম নাহিদ

0
14


ঈদ হোক আনন্দঘন……নূরুল ইসলাম নাহিদ

ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে আনন্দ। মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ঈদুল আযহা। যা আমাদের কাছে কোরবানীর ঈদ নামে পরিচিত। ঈদ এলেই আমাদের মাঝে অনাবিল আনন্দ বিরাজ করে। শুরু হয় নতুন পোশাক কেনার ধুম। চলতে থাকে নিজেকে নতুন রূপে সাজানোর প্রতিযোগিতা। এ সময় দুঃখ কষ্ট ভুলে ছোট-বড়, ধনী-গরিব সকলে মিলিত হয়ে আনন্দ উপভোগ করে থাকি। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এই ঈদে আমরা হালাল পশু কোরবানী করে থাকি।

কিন্তু সম্প্রতি বন্যা ও কোবিড-১৯ এর প্রভাবে থমকে গেছে পৃথিবী। বেড়েছে বেকারত্ব। সংসারে দেখা দিয়েছে অভাব। তাই বিগত বছরের ন্যায় ঈদের আনন্দ থেকে আমরা বঞ্চিত হবার পথে। এজন্য আমরা যারা স্বচ্ছল জীবন অতিবাহিত করছি আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে বিপদে আপদে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো। বাড়ির আশে পাশেই হয়তো অনেক এতিম, অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত শিশু রয়েছে। এসব শিশুদের নতুন জামা কাপড় কিনে দেওয়া। তাদেরকে ঈদের আনন্দের অংশিদারি করা। তাদের মুখে হাসি ফোটানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিবেশীদের মধ্যে অনেকেই হয়তো আর্থিক দুরবস্থার কারণে অসহায় জীবন কাটাচ্ছে। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রস্তুতি নিতে পারছেনা ঈদের আয়োজনের। লজ্জায় কারো কাছে সাহায্যের হাত বাড়াতেও পাচ্ছেনা। তাই বিত্তবানদের উচিত প্রতিবেশীদের খোঁজ খবর নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো। ধনীদের সম্পদের উপর গরিবের হক রয়েছে। গরিবের হক সঠিক ভাবে আদায় না করলে হাশরের ময়দানে আল্লাহ তায়ালার কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

গোপনে অথবা প্রকাশ্যে যে ভাবেই হোক সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে কোন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটালে আল্লাহ তায়ালা ঐ বান্দার প্রতিও খুশি হন। যেহেতু ঈদুল আযহা, তাই আমরা সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করার জন্য কোরবানী দিব। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্তে¡ও কোরবানী করেনা সে যেন ঈদগাহের ধারের কাছেও না আসে। কোরবানীর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়, তাকওয়া অর্জন করা যায়। কোরবানীর গোশতকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করে থাকি। এক ভাগ নিজের, এক ভাগ আত্বীয় স্বজনদের এবং এক ভাগ গরিব অসহায়দের মাঝে বন্টন করে দিয়ে থাকি। তবে এ বছর আমরা চেষ্টা করব নিজের ভাগে কম রেখে কোরবানী দেওয়ার মত সামর্থ্য নেই এমন গরিব অসহায়দের মাঝে একটু বাড়িয়ে দিতে। এতে তাদের মুখে হাসি ফোটবে। ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে।

আমাদের সওয়াবও অনেক বেশি হবে। ধনী-গরিব সকলে মিলে আনন্দ করার নামই হচ্ছে ঈদ। ঈদের আনন্দ সকলের মাঝে যাতে বিরাজ করে সেজন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এগিয়ে যেতে হবে অসহায়দের পাশে। তবে ঈদের এই আনন্দের মুহূর্তে আমাদের সকলকেই সতর্কতা অবলম্বন করে চলতে হবে। বিশ্ব ব্যাপী প্রাণঘাতী ভাইরাস ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে। কেড়ে নিচ্ছে তাজা প্রাণ। তাই নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে আমরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করব। দুঃখ বেদনা ভুলে হাসি খুশিতে কাটুক সবার ঈদ। ঈদ হোক আনন্দঘন।

নূরুল ইসলাম নাহিদ
লেখক: শিক্ষার্থী, খিয়ংহি সাইবার বিশ্ববিদ্যালয়
সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া।



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে