পরিচ্ছন্নতা অভিযান আমাদেরই শুরু করতে হবে

0
125

ডেঙ্গু আতঙ্ক কমেনি। বরং বাড়ছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ার খবর আসছে। যাদের মধ্যে রয়েছে অনেক শিশু। ৪ আগস্ট পত্রিকার পাতায় ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গড়ে ১৬৯৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতেও তৈরি হচ্ছে স্থান সংকট।

মূলকথায় ফিরি। পত্রিকায় পাতায় পড়লাম, দেখলাম ডেঙ্গু রোধে পরিচ্ছন্নতার অজুহাতে হাতে ঝাড়– নিয়ে অনেকেই রাস্তায় নেমেছেন, রাস্তা পরিষ্কার করছেন। মনে হলো, হাসির সিনেমা দেখছি। ছবির সবাই বিষয়ভিত্তিক অভিনয়ে ব্যস্ত।
আজকাল তো সিনেমায় কতকিছু দেখানো হয়, অভিনয়ে কত রকম মানবিক উপলব্ধি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা চলে। আর ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র হলে তো কথাই নেই।

একটা সিনেমায় দেখেছিলাম, নায়ক তার বুকের ভেতর থেকে হৃৎপিন্ড বের করে নায়িকাকে দিতে চাইলেন ভালোবাসা স্বরূপ। কী রক্তাক্ত অভিব্যক্তি তার। মূলকথা, নির্মাতা চাইলে এসব সম্ভব। তিনি চাইলেই আকাশে ডানা ছাড়াও নায়ক-নায়িকা উড়তে পারেন।  যে চলচ্চিত্রের স্বাদ পাওয়া যায় তাতে মনে হয় ঝাড়ু হাতে দৃশ্যমান মানুষদের নির্মাতা আছেন, নির্দেশনাও আছে। ক্যামেরাও আছে সামনে। অভিনয় দেখানোর বিষয় আছে, উপকরণ আছে। তারপরও অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পেলেন না।

কারণ ওটা আদতে অভিনয় মনে হয়নি, মনে হয়েছে ভন্ডামি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তেমনই প্রতিক্রিয়া দেখা গেল। ফলে সমালোচিত হলেন তারা। অভিনয়ের বিষয়বস্তু ছিল এডিস মশা রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি। অথচ মোটেও তারা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হয়ে উঠলেন না। ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুবরণকারী পরিবারের হাহাকার, আর বেদনাহত অভিব্যক্তি, তারা মোটেও সেই বেদনা নিজেদের ভেতরে ফোটাতে পারেননি। বরং মনে হয়েছে রীতিমতো মশকরা।

মানবিক হওয়া সহজ নয়। মানবিক হতে হলে আগে মানুষ হতে হয়। মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ। সেলিব্রেটিদের কেউ কেউ মাঝে-সাঝে মানবিক হতে চান। কিন্তু সবাই তা পারেন না। ভেতরে বোধ না জাগলে কি শুধু ঝাড়ু হাতে মানবিক হওয়া যায়? অথচ ওনারা পারতেন, এই ওনারাই যদি ঝাড়– হাতে না নেমে, হাসপাতালে লাইন দিয়ে বøাড ডোনেট করতেন, মশা মারার অকার্যকর ওষুধের বিরোধিতা করতেন, কেন সিটি করপোরেশন এডিস মশাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ, সেই জবাবদিহিতা চাইতেন, চাঁদা তুলে রোগীদের সেবা দেওয়ার জায়গাটিতে অংশগ্রহণ করতেন, পরিষ্কার রাস্তায় ঝাড়ু না দিয়ে ডোবা-নালা-খাল পরিষ্কার করতে নামতেন। কিন্তু পত্রিকার পাতায় আমরা যা দেখেছি, তাতে ঠিক মানবিক বিষয়টি উঠে আসেনি। বিষয়টি মোটেও মানবিক লাগেনি। দায়িত্বশীল নাগরিক মনে হয়নি। নিশ্চিত বলা যায়, এতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত স্বজনহারা পরিবার কিংবা সাধারণ মানুষ আপ্লুত হননি।

পরিশেষে বলি, এডিস মশা তামাশা করার কোনো বিষয় নয়, নয় অবহেলার। মাদক, জঙ্গি, দুর্নীতিবাজদের মতোই প্রাণঘাতক এক সত্তা। যাদের অবহেলার কারণে আজ এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তাদের জবাবদিহিতা নেওয়া জরুরি। বৃষ্টি হবেই। বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার হবে। মশার সেসব আবাসস্থল ধ্বংস করতে হবে, আর তাতে আমাদেরই আগে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদেরই হাত লাগাতে হবে। মশার বিরুদ্ধে, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে