করোনা ভাইরাস জ্যামিতিক হারে ছড়ায়

0
72


করোনা ভাইরাস জ্যামিতিক হারে ছড়ায়

ব্যবসায়িক কারণ ছাড়াও শিক্ষাগত কারণে অনেক বাংলাদেশি চীনে যাতায়াত ও অবস্থান করেন। জনবহুল দেশ এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কারণে চীনের সঙ্গে নিয়মিত ফ্লাইটে যাত্রী যাতায়াতের কারণে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি কিছুটা বেশি বলে মনে করেন বিশিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। তিনি বলেছেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। চীন থেকে আগত যাত্রীদের স্ক্রিনিং আরো জোরদার করা উচিত। কারণ করোনা ভাইরাস জ্যামিতিক হারে দ্রুত ছড়ায়। গতকাল সোমবার ভোরের কাগজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, করোনা ভাইরাস এমন একটি ভাইরাস যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে এবং মানুষ থেকে মানুষের মধ্য ছড়ায়। বাতাসের মাধ্যমেও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। ১৪ দিন পর এই ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাই যারা চীন থেকে দেশে ফিরছেন তাদের অন্তত ১৪-১৫ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার। জ্বর, সর্দি-কাশি দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

চীনের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ রাখা উচিত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই চীনের হুয়ান প্রদেশের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। বাণিজ্যের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করে আমাদেরও ওই প্রদেশের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করা যেতে পারে।

স্থলবন্দরে সতর্কতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই দিকে দৃষ্টি রাখা দরকার। তবে এখনই স্থলবন্দর দিয়ে এই ভাইরাস ছড়ানোর কোনো ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করি না। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলবন্দর রয়েছে ভারত ও মিয়ানমারে। এই দুটি দেশে এখনো এই ভাইরাস ছোবল বসায়নি। তবে কলকাতাতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। কলকাতায় করোনা ভাইরাসের অবস্থা কী তা আগামী দুই তিন দিনের মধ্যেই বোঝা যাবে।

করোনা প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিরোধের ওপর আমাদের জোর দিতে হবে। যেহেতু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি ছড়াচ্ছে তাই আমাদের উচিত হবে মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দেয়া। মাস্ক ব্যবহার করা। হাইজিন মেইনটেইন করা। হাত-পা-মুখ সাবান দিয়ে ধোয়া। বাইরে থেকে বাসায় এসে প্রয়োজনে গোসল করা।



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে