চাকরির নামে প্রতারণা, ৩০ সদস্য গ্রেপ্তার

0
108


চাকরির নামে প্রতারণা, ৩০ সদস্য গ্রেপ্তার

চাকরির নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া পেশাদার ও সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের ৩০ সদস্যকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব-৪)।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ২০৩ জন ভুক্তভুগীদেরও উদ্ধার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রতারকচক্রটি ৫০ হাজার ৮০০ টাকা করে এক কোটি তিন লাক্ষ ১২ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করে। গ্রামের মধ্যশিক্ষিত বেকার ও নিরীহ যুবকদের চাকুরী দেয়ার নাম করে প্রায় এক হাজার এর অধিক চাকুরী প্রত্যাশিদের সাথে প্রতারণা করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মোঃ বেলায়েত হোসেন (২৭), মোঃ শরীফ (২৪), মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৮), একরামুল হাসান(২৫), মোঃ গোলাম কিবরিয়া(৩৮), মহাইমিনুল ইসলাম(৩০), মোঃ সজিব শেখ (২৫), মোঃ তারেক (২৫), মিঠুন বিশ্বাস (২৪), ফয়সাল আল মাহমুদ (২৩), মোঃ শফিকুল ইসলাম (২২),সুমন সরকার (২১), শান্ত চন্দ্র মিত্র (২১), রেজভী আহম্মেদ (১৯), মহসীন হোসেন (২১), লিটন দাশ (২৩), মোঃ হালিম মিয়া(২৩), সুমন চাকমা(২৩), মেহেদী হাসান(২২), আজিজুর রহমান (২৫), আমজাদ হোসেন (২৪), পলাশ হোসেন (২১), মোঃ মোশারফ হোসেন (২২), মোঃ আজাদ খান (২২), মোঃ মমিনুর রহমান (২১), কনক মালাকার (২০), সজীব বিশ্বাস (২০), মোঃ সুমন হোসেন (২২), ইমরান মোল্লা (২১) ও শফিকুল ইসলাম(২১)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নানাবিধ নথিপত্র ও সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

র‌্যাব- ৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, প্রতারকচক্রের প্রতিটি সদস্য প্রতারণাকে তাদের পেশা হিসেবে গ্রহণ করায় তাদের এ সংগঠনের একটি সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। এরা নিজেদেরকে ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। এরা প্রতারক চক্রের মাঠ পর্যায়ের কর্মী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেকার যুবকদের চাকুরী প্রদানের লোভনীয় অফার দিয়ে বেকার যুবকদের নিয়ে আসে। ভিকটিমদের বলা হয় একমাসের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করেই চাকুরী পাওয়া যাবে। ভিকটিমদের নিকট এই প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধার ব্যাপারে লোভনীয় অফার দেয়। ভিকটিমকে প্রলুব্ধ করে এবং তথ্যাদি সংগ্রহ করে প্রতারক চক্রের অফিস কার্যালয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে। টাকা বিনিয়োগ করে এবং বিনিয়োগকৃত টাকা উদ্ধারের প্রলোভনে পড়ে নিজেরাও প্রতারণার সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করে।

তিনি জানান, ডিস্ট্রিবিউটর এবং মাকেটিং অফিসারের মাধ্যমে তাদের ভাইভা অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যরা তাদের ভাইভা নেয় এবং তাদের কাছ থেকে চাকুরী দেওয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। অফিসে ভূয়া রিসিপসনিষ্ট, অফিস সহকারী ইত্যাদি বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মীদের রেখে অফিসের কাঠামো তৈরী করে। টাকা গ্রহণের পরে ট্রেনিং এর নামে ট্রেনিং অফিস নামে কথিত অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেয়।

তিনি আরো বলেন, ভুয়া এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান চাকুরীর প্রার্থীদের প্রশিক্ষণে কীভাবে জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রার্থীরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে তার প্রেষণা দিয়ে থাকে। এজিএম এবং জিএম এর মাধ্যমে সংগ্রহকৃত অর্থ চেয়ারম্যান এর নিকট পাঠিয়ে দেয়া হয়। ভুয়া প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে ভিকটিমদের এক মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়ার নাম করে আটকে রাখা হয়। ভিকটিমরা তাদের টাকা ফেরত চাইলে প্রতারক চক্র তাদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং তাদের মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এক সময় প্রতারক চক্র অফিস গুটিয়ে পালিয়ে যায়।

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে