রায়ে খুশি রোহিঙ্গারা, দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি

0
33


রায়ে খুশি রোহিঙ্গারা, দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের (আইসিজে) অন্তর্বর্তী রায় পক্ষে আসায় খুশিতে আন্দোলিত বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা। আন্তর্জাতিক আইনের যে সব ত্রুটি রয়েছে তার ঊর্ধ্বে উঠে দ্রুত রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আইসিজের অন্তর্বর্তীকালীন রায়কে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন সচেতন মহল। তারাও রায় কার্যকরের মাধ্যমে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার দ্রুত প্রত্যাবাসন দাবি করেছেন।

জানা গেছে, গতকাল সকাল থেকে আন্তর্জাতিক আদালতের দিকে দৃষ্টি ছিল রোহিঙ্গাদের। ক্যাম্পের মধ্যে জড়ো হয়ে রেডিও-টেলিভিশন ও প্রজেক্টরের মাধ্যমে রায় পড়া দেখেছিল তারা। মামলার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে রায়টি তাদের পক্ষে এলে আনন্দে মেতে ওঠেন অনেকেই।

২৭ নং রোহিঙ্গা শিবিরের হ্যাড মাঝি বজলুর রহমান জানান, সকাল থেকে অনেকেই নিত্যদিনের কাজকর্ম থেকে বিরত ছিলেন। এমনকি রান্নাবান্নাও করেননি অনেকে। তা ছাড়া রোজা রাখার পাশাপাশি ভোর থেকেই কুরআন তিলাওয়াত ও মসজিদে প্রার্থনায় মশগুল ছিলেন অনেক প্রবীণ রোহিঙ্গা।

তিনি বলেন, মামলার শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন রায়টি পক্ষে আসায় আমরা মহাখুশি। সবার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ, গাম্বিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি রায়ের কঠোর বাস্তবায়ন আশা করছি।

২২ নং রোহিঙ্গা শিবিরের ‘এ’ ব্লকের মাঝি নজির আহমদের ছেলে সৈয়দ হোসেন জানান, আইসিজে যে রায় বা আদেশ দিয়েছে তাতে তারা খুশি। মামলার শেষ পর্যন্ত গিয়ে তাদের নাগরিকত্ব, ভিটেমাটি ফেরত, নিরাপত্তা ও গণহত্যার বিচারের নিশ্চয়তা দিতেই হবে। অন্যথায় তারা ওপারে ফিরবেন না।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আলি বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের সুষ্ঠু রায়ের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গারা ফিরে গেলে এ অঞ্চল অভিশপ্ত মুক্ত হবে।

নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফরিদুল আলম বলেন, মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনা লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের স্থান দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে স্থায়ীভাবে স্থান দেয়া সম্ভব নয়। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও ধর্ষণসহ নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঘিরে বাংলাদেশেও এক চরম মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

ডিসি



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে