লাইসেন্স পাওয়ার পর শর্ত ‘ভুলে’ যায় কর্তৃপক্ষ

0
85


লাইসেন্স পাওয়ার পর শর্ত ‘ভুলে’ যায় কর্তৃপক্ষ

দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ১০ শতাংশ বেড রাখা হবে এমন শর্তেই লাইসেন্স দেয়া হয় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোকে। অথচ লাইসেন্স পাওয়ার পর তা বেমালুম ‘ভুলে’ যায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই শর্ত কোনো হাসপাতাল মানছে, কোনোটি মানছে না তার তালিকা চেয়েছিল হাইকোর্ট ২০১৯ সালের ৭ মার্চ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালগুলো কেন এই শর্ত মানছে না এ নিয়ে রুলও জারি করেছিল আদালত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দরিদ্র রোগীদের জন্য বেসরকারি হাসপাতালেও ফ্রি বেড আছে- এই বার্তাটি অনেকেই জানেন না। রোগীরা শুধু বঙ্গবন্ধু মেডিকেল, ঢাকা মেডিকেলসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে যায়। তারা বেসরকারি হাসপাতালে ফ্রি বেডের চিকিৎসা নিতে যায় না। তারা মনে করে বেসরকারি হাসপাতাল মানেই ব্যয়বহুল চিকিৎসা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার নীতিমালায় লাইসেন্স প্রাপ্তির শর্ত হিসেবে বলা আছে, হাসপাতাল-ক্লিনিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ৫ শতাংশ এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০ শতাংশ বেড বিনামূল্যে দরিদ্র রোগীদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। বিনামূল্যে সেবা গ্রহণকারীর নাম, ঠিকানা, মোবাইল ফোন নম্বর ও রোগের বিবরণ সংরক্ষণ করতে হবে। ওই তালিকা চাহিবামাত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিতে বাধ্য থাকবে। তবে তাদের চিকিৎসার অন্য খরচ কে বহন করবে সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। এ ছাড়া অনেকে জানেনই না বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দরিদ্রদের বিনামূল্যের বেড আছে।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনের কাজে যুক্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রায় সব কটি চলছে কমবেশি শর্ত অমান্য করে। অভিযোগ আছে, দেশের শতকরা ৭০ ভাগ বেসরকারি হাসপাতাল বিনামূল্যে বেডের ব্যবস্থা করছে না। এর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে- এ্যাপোলো হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল, ল্যাব এইড হাসপাতাল, পপুলার হাসপাতাল। এর বাইরেও রয়েছে বিপুলসংখ্যক হাসপাতাল ও ক্লিনিক। এই পরিস্থিতির জন্য বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থাকে দায়ী করেন স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব। তিনি বলেন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণ করার মতো দেশে শক্তিশালী কোনো আইন নেই। থাকলেও তার কার্যকারিতা নেই। স্বাস্থ্যসেবা এখন বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। তাই তারা ব্যবসায়িক দিকটিই ভাবেন। যেসব প্রতিষ্ঠান নীতিমালা মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

আর এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসান ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা যখন মনিটরিংয়ে যাই তখন কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনগুলো ফ্রি বেড তা দেখায়। কিন্তু মাঝখানে কী হয় সেটি দেখা সম্ভব নয়। কারণ আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। জনবল সংকট আছে।

সমস্যা কাটাতে জনবল নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের জনবলের অভাব আছে। জনবল নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে ব্যবসায়ী মনোবৃত্তি থাকলে তা মনিটরিং করা মুশকিল। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বেসরকারি হাসপাতালগুলো যেন সরকারের নিয়ম মেনে চলে, সে জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে