শব্দ যন্ত্রণায় পড়তে পারছে না পরীক্ষার্থীরা

0
57


শব্দ যন্ত্রণায় পড়তে পারছে না পরীক্ষার্থীরা

শেষ সময়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। প্রতিদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তারা। সরাসরি ভোট আর দোয়া প্রার্থনা করছেন। তবে প্রার্থীদের সরসারি ভোটপ্রার্থনার পাশাপাশি তাদের পক্ষে নানাভাবে ভোট চাচ্ছেন সমর্থক ও কর্মীরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে গানবাজনার মাধ্যমে প্রচারণা। আর এতে ব্যবহার করা হচ্ছে উচ্চ মাত্রার শব্দ সৃষ্টকারী মাইক।

নগরবাসী ও ভোটারদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারণার গান যত্রতত্র বিকট ও মাত্রাতিরিক্ত শব্দে বাজানো হচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত ১১টা পর্যন্ত এসব ‘শব্দ সন্ত্রাস’ চলছে। রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত চলছে এই ‘অত্যাচার’। বেলা দুইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মাইকিং করার বিধান থাকলেও মানছেন না কেউই। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবন যাপন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

মহানগরের অলিগলিতে ছোট ছোট বুথ বানিয়ে চালানো হচ্ছে প্রচারণাধর্মী হরেক রকমের গানবাজনা। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো কিছুক্ষণ পর পরই রিকশা বা সিএনজি করে বিকট শব্দের মাইকিং করা হচ্ছে। এসব মাত্রাতিরিক্ত গান বাজনা ও বিকট শব্দের মাইকিংয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে এসএসসি শিক্ষার্থীদের। রাতদিন শব্দ দূষণের কারণে তারা পড়ালেখায় মনোযোগী হতে পারছে না। পাশাপাশি হাসপাতালের রোগী আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নাজেহাল অবস্থা। উচ্চমাত্রার শব্দের কারণে মানসিকভাবে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বয়স্ক ও শিশুদের।

দুই সিটি ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটিতে ছয়জন ও দক্ষিণে সাতজন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও একেক ওয়ার্ডে রয়েছে প্রায় আটজন করে কাউন্সিলর প্রার্থী। এদের প্রত্যেকেরই রয়েছে অন্তত চারটি করে গানবাজনার প্রচারণা। সবাই নিজেদের খেয়াল খুশিমতো প্রচারণা চালাচ্ছেন। জনদুর্ভোগের বিষয়টি নেই কারো মাথাতেই। যাদের কাছে ভোট চাওয়ার জন্য এমন প্রচারণা সেই ভোটাররাই এখন অতিষ্ঠ। তবে এ ব্যাপারে কোনো বিকার নেই প্রার্থী, তার সমর্থক ও কর্মীরা। এমনকি মসজিদে নামাজের সময়ও গান বাজনার মাধ্যমে প্রচারণা বাদ যাচ্ছে না। এতে চরম বিরক্ত বোধ করছেন মুসল্লিরা।

ঢাকা উত্তর সিটির বাসিন্দা শাহিদা পারভিন ভোরের কাগজ লাইভকে বলেন, সকাল থেকেই এদের মাইকের শব্দ শুরু হয়। আবার বাসার সামনে নির্বাচনী ক্যাম্প বসেছে। রাত ১০টা পর্যন্ত গান চলতেই থাকে। বিকট শব্দে আমার শিশু বাচ্চা একটু পর পর ভয় পেয়ে উঠে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ওয়ারির বাসিন্দা সবুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে ভোরের কাগজ লাইভকে বলেন, সারাদিন অফিস করে বাসায় ফিরেও শান্তি নাই। এই ধরণের অস্বাভাবিক শব্দে মন মানসিকতা ঠিক থাকে না। যে যেভাবে পারছে, সে সেভাবেই আমাদের ‘অত্যাচার’ করছে। নির্বাচনের আগেই তারা যে ধরনের আচরণ করছে নির্বাচনের পর আমাদের সমস্যা কতটুকু দেখবে তা জানি না।

দুই সিটির বেশ কয়েকজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, নির্বাচনী মাইকিং ও গান বাজনার কারণে তারা পড়াশুনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। আগে যা পড়া ছিল তা রিভাইসও দিতে পাড়ছে না ঠিক মতো।

এনএম



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে