সিপিবি সমাবেশে বোমা হামলা ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড

0
91


সিপিবি সমাবেশে বোমা হামলা ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দুই জনকে খালাস দিয়েছে আদালত। সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকাল  সোয়া ১১টায় ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম এ হত্যাকাণ্ডের মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টনে সিপিবি সমাবেশে বোমা হামলায় ৫ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হন। ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১০৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৮ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। তবে আসামিপক্ষে কেউ সাফাই সাক্ষী দেননি।

সিপিবির মহাসমাবেশ চলাকালে বোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ হামলায় খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, রূপসা উপজেলার সিপিবি নেতা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরা থানার লতিফ বাওয়ানি জুট মিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম ও মাদারীপুরের মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া বোমা হামলায় খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের নেতা বিপ্রদাস রায় আহত হয়ে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে মারা যান। এছাড়া আহত হন বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। এদের মধ্যে অমর মণ্ডল, লক্ষণ মণ্ডল, মো. জাহাঙ্গীর, আব্দুস সাত্তার, মিজানুর রহমান, এম এ করিমসহ অনেকেই পঙ্গু অবস্থায় বেঁচে আছেন।

পল্টন ময়দানে সিপিবির সেই মহাসমাবেশে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সেদিনের লোমহর্ষক ঘটনা বাংলানিউজের কাছে তুলে ধরেন।

তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা এস এম চন্দন বাংলানিউজকে বলেন, সেদিন বিকেল ৫টার দিকে সিপিবির মহাসমাবেশে আমার এক বন্ধুর সঙ্গে বাদাম খাচ্ছিলাম। ঠিক সেই সময় হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চমকালে যেমন আলোর ঝলকানি দেখা যায়, দিনের বেলায় তেমননি আলোর ঝলকানি দেখতে পেলাম। এ সময় মনে হলো পল্টন ময়দানটাকে কে যেন একটা ঝাঁকি দিলো। এতে আমি কিছুক্ষণ হতবুদ্ধি হয়েছিলাম। আমি প্রথমে ভেবে ছিলাম কেউ হয়তো পটকা ফুটিয়েছে। একটু পরেই মনে হল পটকার শব্দ কি করে এতো তীব্র হবে, মাটি কেঁপে উঠবে, আগুনের উল্কা দেখা যাবে? এরপর একটু এগুতেই দু’জনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। এ মধ্যে একজন হিমাংশু মণ্ডল তিনি আমার পরিচিত ছিল। এরপর মরদেহ নিয়ে মিছিল হয়। স্টেডিয়ামের ভাসানী গেটের দিকে মিছিল গেলে পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর আমি রাজশাহী চলে আসি। পরদিন ২১ জানুয়ারি আধাবেলা দেশব্যাপী হরতাল ডাকা হয়।



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে