ঋণখেলাপি-ব্যাংক ডাকাতদের গ্রেপ্তার দাবি

0
24


ঋণখেলাপি-ব্যাংক ডাকাতদের গ্রেপ্তার দাবি

ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। সেই সঙ্গে জনগণের অর্থ লুটকারী ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাতদের শাস্তি নিশ্চিত করা, তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানিয়েছে জোটের নেতারা।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়। আর বাম জোটের এ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি বাধা দেয়ায় তার তীব্র নিন্দা জানান নেতারা।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ। সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কবাদীর) কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক।

সমাবেশে নেতারা বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংক, আর্থিক খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও নৈরাজ্য চলছে। ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতো বেশি ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। তারপরও জনগণের আমানতের টাকা আত্মসাৎ করার জন্য সরকার নতুন নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দিচ্ছে। দেউলিয়া ফার্মার্স ব্যাংকের কলঙ্ক ঢাকতে নতুন নাম করেছে পদ্মা ব্যাংক। অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম হিসেব করে দেখিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ খেলাপির যে তালিকা দিয়েছে তা চাতুর্যপূর্ণ। বাস্তবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি।

নেতারা আরো বলেন, সরকার ঋণ খেলাপি ব্যাংক ডাকাতদের ভিআইপি ও সিআইপি মর্যাদা দিয়ে পুরষ্কৃত করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ব্যাংক খোলার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের চাপে ব্যর্থ হয়েছে। মন্ত্রী-এমপিরা ক্ষমতার জোরে নামে বেনামে ব্যাংক খুলছে। এই পরিস্থিত থেকে দেশের অর্থর্নীতি রক্ষায় সকল বাম গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান তারা।

পাপিয়ার পৃষ্ঠপোষকদের গ্রেপ্তার দাবি
বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা বলেন, সরকারি দলের নেতাদের সিন্ধুকে ২৬ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। এ টাকা কোথা থেকে এলো? পাপিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অথচ তার পৃষ্ঠপোষক রাঘব বোয়ালদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন? এ সরকার জনগণের ভোটে যেহেতু ক্ষমতায় আসেনি সেজন্য জনগণের প্রতি কোনো দায় নেই। আজ ভোট ডাকাত ও ব্যাংক ডাকাত এক হয়েছে। ফলে এই সরকারের পক্ষে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনা বা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করতে হলে, ব্যাংকের লুটপাট বন্ধ করতে হলে বর্তমান ভোট ডাকাতের আওয়ামী সরকারকে উৎখাত করতে হবে। সেই আন্দোলনে তিনি সকল বাম গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি দৈনিক বাংলার মোড়ে পৌঁছলে পুলিশের কাঁটাতারের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। পরে সেখান থেকে বাম জোট সমম্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি দেন।

এনএম



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে