করোনার কারণে চীনমুখী যাত্রী সংকট

0
48


করোনার কারণে চীনমুখী যাত্রী সংকট


প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ক্ষতির মুখে চীন অভিমুখী এভিয়েশন খাত, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশে চীন থেকে আসা-যাওয়া যাত্রীর সংখ্যা এখন প্রায় শূন্যের কোটায় ঠেকেছে। যাত্রী কমেছে থাইল্যান্ড, হংকং, সিঙ্গাপুর বা মালেশিয়া যাতায়াতকারী ফ্লাইটেও। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) তথ্য মতে, কোভিড-১৯ এর কারণে ৭০টি এয়ারলাইনস চীন থেকে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে।

আরো ৫০টি এয়ারলাইনস চীনের সঙ্গে কানেকটিং ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রেখেছে। ফলে সরাসরি চীন থেকে আসা বিদেশিদের জন্য বিদেশি বিমান সংস্থার যাত্রী পরিবহন ৮০ শতাংশ কমেছে এবং চীনা এয়ারলাইন্সগুলোর কমেছে ৪০ শতাংশ। জানা গেছে, আকাশপথে ঢাকা ও চীনে যাত্রী ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় ফ্লাইট অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে বিমান সংস্থাগুলো। ভাইরাস আতঙ্কে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার প্রধান পর্যটন গন্তব্যগুলোতে টিকেট বাতিল করেছে প্রায় ৮০ শতাংশ বাংলাদেশি ভ্রমণকারী। একইভাবে বাংলাদেশে আসার পূর্বনির্ধারিত ভ্রমণও বাতিল করছে অনেক বিদেশি পর্যটক।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল-আহসান বলেন, যাত্রী কমে যাওয়ায় চীন থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনসগুলো গত সপ্তাহ থেকে ফ্লাইট অর্ধেকের বেশি কমিয়ে এনেছে। এ ছাড়া ঢাকা-সিঙ্গাপুর রুটেও ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি কমাচ্ছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস। তিনি জানান, এ দেশ থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, চায়না ইস্টার্ন ও চায়না সাউদার্ন ফ্লাইট পরিচালনা করে। তারা এখন ফ্লাইট সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। এদিকে ফ্লাইটের বুকিং বাতিল করা ছাড়াও টিকেট কনফার্ম (নিশ্চিত) থাকা সত্তে¡ও যাত্রী বিমানবন্দরে উপস্থিত না হওয়ার (নো শো) ঘটনাও বাড়ছে। শাহজালালে চায়না সাউদার্নের এক কর্মকর্তা জানান, গুয়াংজুগামী ফ্লাইটে কনফার্মেশন কমছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা ঢাকা-গুয়াংজু ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়েছি। আগে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট চললেও এখন তিনটি চলছে। এই তিনটি ফ্লাইটেও চীনগামী যাত্রী কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে ফিরতি ফ্লাইটে যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি। অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) সভাপতি মনছুর আহমদ কালাম জানান, ভরা পর্যটন মৌসুমে এমন প্রতিক‚ল পরিস্থিতির কথা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। টিকেটের ৮০ শতাংশই বাতিল হচ্ছে, যাত্রীরা টাকা ফেরত নিচ্ছেন।
একই কথা জানান ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান।

তিনি বলেন, আউটবাউন্ড ও ইনবাউন্ড পর্যটনের একটি বড় বাজার চীন। করোনা ভাইরাসের কারণে উভয় পর্যটনেই বড় ধাক্কা লেগেছে। এর ওপর আবার সিঙ্গাপুর, চীন, থাইল্যান্ড, জাপানসহ আরো কিছু গন্তব্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমাদের ট্যুর অপারেটররা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চীনের প্রায় সব ভ্রমণ প্যাকেজ বাতিল হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন চীন কেন, সিঙ্গাপুরও যেতে চাইছেন না পর্যটকরা ও ব্যবসায়ীরা। এমনকি অন্য দেশে যাওয়ার সময় ট্রানজিট হিসেবেও সিঙ্গাপুরকে এড়িয়ে চলছেন যাত্রীরা। এসব কারণে ওই অভিমুখী ফ্লাইটের যাত্রী সংখ্যা ব্যাপকহারে কমেছে।

এসআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে