প্রার্থীদের সঙ্গে ইসির ৫ প্রস্তাব নিয়ে বৈঠক রবিবার

0
28


প্রার্থীদের সঙ্গে ইসির ৫ প্রস্তাব নিয়ে বৈঠক রবিবার



ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে মাত্রাতিরিক্ত শব্দে মাইকিং, অতিরিক্ত ল্যামিলেটের পোস্টার ব্যবহার এবং রাস্তাঘাট জ্যাম করে যাতে প্রচার প্রচারণা না চালানো হয় সেজন্য পাঁচ দফা প্রস্তাব নিয়ে ৬ জন প্রার্থীর সঙ্গে বসছে নির্বাচন কমিশন। আগামীকাল রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আগরগাঁওস্থ ইসির ইটিআই ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ বৈঠকে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ ৬ দলের প্রার্থীদের ডাকা হয়েছে। এ আসনের উপনির্বাচন আগামী ২১ মার্চ।

এর আগে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে তফসিল ঘোষণা দিনে ইসি সচিব ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটের প্রচারে লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহার ও মাত্রাতিরিক্ত শব্দ দূষণ নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে এর ‘বিকল্প’ প্রচারের বিষয়টি উল্লেখ করেন। সম্প্রতি শেষ হওয়া ঢাকা দু সিটির মেয়র ও কাউন্সিলরদের মাইকিং ও পোস্টারে রাজধানীতে পরিবেশ দুষণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। তার অংশ হিসেবেই প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তত কিছু বিষয়ে ঐকমত্য তৈরির পথ খুজতে ইসির এই বৈঠকের আয়োজন।

এর আগে প্রচারদূষণ রোধে ৫টি প্রস্তাব মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ৬ প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম সাহতাব উদ্দিন। তিনি বলেন, ভোটের প্রচারে বিধি-নিষেধের বিষয়গুলো আচরণবিধিতে রয়েছে। এর মধ্যে থেকে প্রার্থীরা অনেক কিছুই করতে পারেন। তবে সবার সম্মতি ও সহযোগিতা পেলে ঢাকার এ উপ নির্বাচনে দূষণমুক্ত প্রচার সম্ভব হবে বলে মনে করে ইসি। লেমিনেটেড পোস্টার ও শব্দদূষণে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। এখন দুর্ভোগ কমাতে প্রার্থীদের সঙ্গে এক ধরনের জেন্টেলম্যান এগ্রিমেন্ট করার চেষ্টা করছে কমিশন।

জিএম সাহতাব উদ্দিন জানান, কাল রবিবার বেলা ১১টায় প্রার্থীদের সঙ্গে বসবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের সদস্যরা। ইসির প্রস্তাবের পাশাপাশি প্রার্থীদের কোনো প্রস্তাব থাকলেও তা নিয়েও আলোচনা হবে। প্রার্থীদের নিজেদের মতামতের পাশাপাশি দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্তও থাকতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নিজেদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে ইসির প্রস্তাব প্রার্থীদের হাতে দেয়া হয়েছে। আশা করি, সবাই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন।

ইসির দেয়া পাঁচ প্রস্তাব হলো- অনুমোদিত মাত্রায় মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার করতে হবে, অনুমোদিত ক্যাম্পে পোস্টার, ব্যানার, ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করা যাবে। পোস্টার ঝোলাতে হবে ইসি নির্ধারিত ২১ জায়গায়, একেকটি জায়গায় পালা করে মাইকিং চলবে। শোভাযাত্রা-পদযাত্রা সীমিত করতে হবে, প্রত্যেক প্রার্থীকে নির্দিষ্ট দিন ও সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। জনসভার জন্য এক বা একাধিক জায়গা নির্দিষ্ট কর দেওয়া হবে, পর্যায়ক্রমে অনুমোদন নিয়ে সভা করতে হবে। তোরণ নির্মাণ, ফুটপাতে ক্যাম্প, রাস্তায় পথসভা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এসব বিষয়ে একমত হলে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে ইসি একটি সমঝোতা স্মারক করতে চায়।

এবিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ইসির পাঁচ প্রস্তাবকে আমি স্বাগত জানাই। কোনোভাবেই জনদুর্ভোগ হোক তা আমরা চাই না। এজন্য কমিশন যে ধরনের প্রস্তাব দেবে তা মানতে চাই। বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম ইসির প্রস্তাবের মধ্যে ইতিবাচক দিক দেখলেও এর বাস্তবসম্মত প্রয়োগ এবং সমান সুযোগ তৈরির নিশ্চয়তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছে। দুই দলের প্রার্থী ছাড়া জাতীয় পার্টির হাজী মো. শাহজাহান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মিজানুর রহমান চৌধুরী ও পিডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী আব্দুর রহিম এ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ঢাকা ১০ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা দক্ষিণের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়।

এসএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে