বিএনপিকে অপকর্ম ছাড়ার ‘প্রেসক্রিপশন’ শাজাহান খানের

0
45


বিএনপিকে অপকর্ম ছাড়ার ‘প্রেসক্রিপশন’ শাজাহান খানের


বিএনপিকে বর্তমান অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে এবং অপকর্ম ছেড়ে সুপথে ফেরার জন্য প্রেসক্রিপশন দেয়ার নামে সাবেক নেীপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, আপনারা (বিএনপি) যত অপরাধ করেছেন তার জন্য জনগণের কাছে করজোরে ক্ষমা চান। প্রতিজ্ঞা করুন আর কোনোদিন এসব অপকর্ম করবেন না। জামাত- শিবির, রাজাকার, আলবদরদের অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করেন, যুদ্ধ অপরাধী ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকার করুন। বলিষ্ঠ কণ্ঠে উচ্চারণ করুন জয়বাংলা ধ্বনি।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করুন। এসবের পর বাঙালি জাতি হিসাব করে দেখবে আপনাদেরকে ক্ষমা করা যায় কি যায় না। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানিত ভাতা ২০ হাজার করার দাবি জানান। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতি কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে? আজকে তা প্রমাণিত হয়েছে। মানুষ হত্যা করে সন্ত্রাস করে বাড়ি গাড়ি পুড়িয়ে নারী ধর্ষণ করে যারা ক্ষমতায় আসতে চায় বা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় তারা কখনো পারে না। এর পরিণতি ভয়াবহ, যার প্রমাণ বার বার হয়েছে ইতিহাসের শিক্ষা এইটা। সেই শিক্ষা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেনি। তাই বিএনপিকে একটা ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) দিতে চাই।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। এসময় সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে শাজাহান খান বলেন, বিএনপির মধ্যে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাদেরকে বলব সত্যকে মেনে নিয়ে আপনারা এগিয়ে আসুন। বিএনপি অপরাজনীতিকে ছেড়ে দিয়ে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালি জাতির ঐতিহ্য রক্ষার জন্য এগিয়ে আসুন। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির এবারের যে সংগ্রাম সেটা হলো যুদ্ধাপরাধী জামায়াত শিবির খুনিদের নিশ্চিহ্ন করার সংগ্রাম।  তিনি বলেন, বিএনপি’র একজন সদস্য (হারুনুর রশীদ) এইখানে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন আওয়ামী লীগ সরকার নাকি জাতিকে বিভক্ত করেছে। বিভক্ত করেছে কারা? যারা রাজাকার, আলবদরদের নিয়ে রাজনীতি করেন তাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি একটা আর আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি তাদের ঐক্যের ভিত্তি একটা।

শাজাহান খান বলেন, বিএনপি জামাতের ঐক্য ২০০৪ সালের ৪ জুনে জামাতের রুকনদের নিয়ে সম্মেলন হয়েছিল, সেখানে তারেক জিয়া এবং বিএনপি নেতারা বলেছিলেন আমরা অর্থাৎ বিএনপি এবং জামাত এক পরিবার। সুতারাং এতে প্রমাণিত হয় তারা কি চেয়েছে বাংলাদেশকে। তিনি বলেন, যে জয়বাংলা বলে রাষ্ট্রপতি প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং শেষ করেছিলেন। এবারও তাই করেছেন। জয়বাংলা ধ্বনি দিয়ে শেষ করে রাষ্ট্রপতি একটা ইঙ্গিত করেছেন। আমি জয়বাংলা ধ্বনিকে জাতীয় ধ্বনি হিসেবে ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।  সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর অঙ্গুলী হেলনে পাকিস্তানী শাসকগোষ্টি কেপে উঠেছিল। তিনি পাক শাসকদের ওপর শাসন চালিয়েছিলেন। কিন্তু ‘৭৫ পরবর্তিতে ‘৯৬ সাল পর্যন্ত জিয়া-এরশাদ জোর করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জাতির সাথে মিথ্যাচার করেছে, জণগনের সম্পদ লুট করেছে। অপশাসন চালিয়ে জনজীবন বিপর্যস্থ করেছে। তারা মানুষের কল্যাণ করতে সক্ষম হয়নি। তাদের পরিনতিও দেখেছে দেশের মানুষ।

এসএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে