ভোরের কাগজের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হোক

0
50


ভোরের কাগজের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হোক


মহান মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে ২৮ বছর পেরিয়ে ২৯ বছরে পা রাখা ভোরের কাগজের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাংবাদিকরা। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে দীর্ঘ পথযাত্রা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আরেক ধাপ এগিয়ে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হোক- এমন প্রত্যাশার কথাই জানিয়েছেন তারা।

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ভোরের কাগজ ২৮ পার করে ২৯ বছরে পদার্পণ করেছে এটা অত্যন্ত আনন্দের। তাদের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ভোরের কাগজ সামনে এগিয়ে যাবে বলে আমি আশা করি। আমি তাদের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর বলেন, দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে যে সামান্য কতগুলো পত্রিকা রয়েছে ভোরের কাগজ তার মধ্যে অন্যতম। এ কাগজটির তাৎপর্য আমাদের কাছে আরো বেশি। কারণ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আন্দোলন যখন শুরু হয়েছিল ভোরের কাগজও সে বছরই প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি আরো বলেন, পত্রিকাটি নিছক সংবাদ পরিবেশন ছাড়াও যে আরেকটি কাজ করে তা হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পাঠকদের উদ্বুদ্ধ করা। এটি দেশের গণমাধ্যমের একটি বড় দ্বায়িত্ব হওয়া উচিত, যা অধিকাংশ পত্রিকা করে না। তাই ভোরের কাগজকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছি ও তাদের আরো সমৃদ্ধি কামনা করছি।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, মনে হয় এই সেদিন কিন্তু কেটে গেছে ২৮ বছর এটা শুনে আমার অবাক লাগছে এই কারণে যে আমি ভোরের কাগজের শুরু থেকেই এর সঙ্গে সংযুক্ত। ভোরের কাগজকে সমৃদ্ধ করতে নিয়মিত পাঠকের পাশাপাশি, নিয়মিত কলাম লিখেছি আমিসহ বেশ কয়েকজন। গত ২৯ বছরে ভোরের কাগজের সঙ্গে যে ভাবে যুক্ত ছিলাম তা এখনও ছিন্ন হয়নি। এখনও ভোরের কাগজে নিয়মিত কলাম লিখি এবং নিয়মিত পড়ি। অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারা বা ধর্মনিরপেক্ষতা মনোভাব সবসময় তারা বজায় রেখেছে। যখন যে কথাটি বলা দরকার তা বলতে তারা কোনো কার্পণ্য করেনি। যেমন বলা যায়, সামরিক শাসনের সময় আমার লেখা অনেক পত্রিকায় ছাপতে চায়নি কিন্তু ভোরের কাগজ নির্দ্বিধায় তা ছেপেছে। যতোদিন বেঁচে থাকবো এবং আমন্ত্রণ জানাবে ভোরের কাগজের সঙ্গে থাকবো।

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, এ পত্রিকাটির নানা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিষয়টি একটি উল্লেখযোগ্য দিক। ভোরের কাগজের মতো আরো যত দৈনিক রয়েছে সবাই মিলে যদি এই দিক তৈরি করতে পারি তাহলে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ পেতে আর বেশি দিন সময় লাগবে না।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভোরের কাগজের সঙ্গে আমার নাড়ির সম্পর্ক। ভোরের কাগজ আমি পড়ি, আমার খুব ভালো লাগে। যেখানে অনেক কিছু ক্ষণিকের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় সেখানে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ভোরের কাগজ ২৯-এ পা দিল। ভোরের কাগজের জন্য শুভ কামনা রইলো।

কানাডা প্রবাসী কবি ও লেখক সাইফুল মাহমুদ দুলাল বলেন, দেশে ফেরার পরই এমন একটি দিনে উপস্থিত হতে পেরে চমৎকার লাগছে। একদম শুরু থেকেই এ কাগজের সঙ্গে আছি। এখনো লিখে যাচ্ছি। এখানে কাজ করে শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ পাই। প্রত্যাশা রইলো ভোরের কাগজ আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

সিনিয়র সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার বলেন, ২৮ পেরিয়ে ২৯-এ পা দিলো ভোরের কাগজ। গণমাধ্যমের জন্য যা একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। শুরু থেকেই ভোরের কাগজ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনসহ সাম্প্রদায়িক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে লেখনীর মাধ্যমে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে। সামনেও রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা রইলো।

ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মোস্তফা কামাল ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মান্নান জানান, ভোরের কাগজের জন্ম থেকে আমরা আছি ও থাকবো। তবে ভোরের কাগজের কাটতি আরো বাড়ানোসহ বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সামনে আরো সচেষ্ট হবেন এমনটাই আশা রইলো।

এনএম



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে