সীমান্ত হত্যা বন্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

0
90


সীমান্ত হত্যা বন্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার



সীমান্তে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিক কর্তৃক হত্যা বন্ধে বিজিবি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং সরকার কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহন করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের (মেহেরপুর-২) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। সন্ধ্যায় স্পিকার ড. শিরীণ শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, সীমান্তে বিএসএফ/ভারতীয় নাগরিক কর্তৃক বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা বন্ধের বিষয়ে বিজিবি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং সরকারএ ব্যপারে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ২৫-৩০ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে ভারতে অনুষ্ঠিত বিজিবি বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলনে সীমান্ত হত্যাকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ব্যাপারে বিএসএফ একমত পোষন করেছে। মন্ত্রী জানান, আত্ন:সীমাান্ত অপরাধও চোরাচালান রোধে সীমান্তএলাকা নজরদারিতে রাখার জন্র বিজিবি ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক টহল পরিচালনা করছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কৃষি সেচ মৌসুমে অন্যান্য সময়ের তুলনায় ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত ডিজেলের চাহিদা বেশি থাকে। এই সময়ে সীমান্ত দিয়ে ডিজেল পাচারও হয়ে থাকে। জ্বালানী তেল পাচার রোধে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডসহ সরকারের অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিএনপির হারুনুর রশৗদের (চাপাইনবাগঞ্জ-৩) এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইনজিওতে সর্বমোট ২৬ হাজার ২৪০জন ভারতীয় কর্মরত রয়েছেন। মো. নাছিমুল আলমের ( কুমিল্লা-৮) এর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগনের নিরাপত্তা ও আইন শৃংখলা উন্নয়নে এবং নির্মম ও হ্নদয়কে ব্যথিত করে তোলৈ এমন অপরাধ যেমন নারী ও শিশু ধর্ষণ প্রতিরোধে বর্তমান সরকার সবচেয়ে সফল। দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে র‌্যাবের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে সামাজিক অপরাধমুলক কর্মকাণ্ড উল্লেকযোগ্য মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে এবং জনগনের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হয়েছে ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মো. মোজাফ্ফর হোসেনের (জামালপুর-৫) এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, ব্রিটিশ আমলে প্রণীত পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৬১ বাংলা ভাষায় রূপান্তরসহ বর্তমান অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে যুযোপযোগি হিসেবে প্রণয়নের পরিকল্পনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তিা বিভাগ গ্রহন করেছে। মোরশেদ আলমের (নোয়াখালী-২) এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান জানান, বর্তমানে দেশের দুটিদেশের সাথে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। দেশ দুটির নাম- ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

দিদারুল আলমের (চট্টগ্রাম-৪) এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিককাঠামো সংস্কারের লক্ষ্যে জনবল বৃদ্ধির বিষয়টি পরিকল্পনায় রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮২ হাজার ১৮৭টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ১৮টি ইউনিট, ৬০টি থানা, ২১৪টি তদন্ত কেন্দ্র ও ১ টি ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় আরও নতুন পদ সৃষ্টির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এসএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে