৮ বছরে প্রাথমিক পর্যায়েই মামলার তদন্ত

0
52


৮ বছরে প্রাথমিক পর্যায়েই  মামলার তদন্ত



এক দুই করে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার আট বছর পূর্ণ হলো আজ। কিন্তু আট বছর পরেও এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কারণ, সব হহত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্তে নেমে তদন্ত কর্মকর্তা প্রথমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ খোঁজেন। এরপর আসামি শনাক্তকরণের চেষ্টা করেন, কোনো ধরনের ক্লু পেতে জব্দকৃত আলামত পরীক্ষা ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এসব একটি মামলা তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম, আট বছর তদন্তের পরও সাগর-রুনি হত্যা মামলা ঠিক এরূপ পর্যায়েই রয়েছে। এখনো আসামি শনাক্তকরণ, জব্দকৃত আলামত পরীক্ষা ও নিহতদের খোয়া যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধারের চেষ্টা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে গতকাল সোমবার নির্ধারিত দিনেও এই মামলার প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার শফিকুল আলম। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্র্রেট দেবব্রত বিশ্বাস প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ফের ২৩ মার্চ দিন ধার্য করেছেন। এ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৭১ বার পেছাল। এ বিষয়ে খন্দকার শফিকুল আলম বলেন, আসামি শনাক্ত না হওয়ায় দেরি হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র রায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে কে জড়িত? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটি আমার জানা নেই। তবে এ ঘটনায় ছয়জন কারাগারে রয়েছে। চলতি বছরে প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব কিনা, তাও নিশ্চিত নন তিনি।
সূত্র জানায়, গত বছরের মে মাসে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজেই মামলাটি সম্পর্কে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল নন। তিনি মামলাটি মাত্র বুঝতে চেষ্টা করছেন। খন্দকার শফিকুল আলমের আগে মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন র‌্যাবের আরেকজন এএসপি মহিউদ্দিন আহমেদ। তার আমলেও কোনো অগ্রগতি ছিল না।
৭০ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের দিন অর্থাৎ গত ১১ ন?ভেম্বর এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ ক?রেন হাইকোর্ট। মামলার আইও র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার শফিকুল আলম সে?দিন উচ্চ আদালতকে জানান, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু (সূত্র) পাওয়া যায়নি। চারটি ডিএনএ প্রতিবেদনের মধ্যে দুটি মিলেছে। এ দুটিতে আসামিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে সেগুলো ফের যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরের দিন রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা। ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত ভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর। তবে এর দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় র‌্যাবকে। সেই থেকে আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।
তবে এর আগে দাখিল করা প্রতিবেদনে ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার কথা বলা হলেও চুরি যাওয়া ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ হত্যাকাণ্ডের ব্যবহৃত ছুরি, বঁটি, ছুরির বাঁট, সাগর-রুনির পরনের কাপড়, সাগরের হাত-পা যে কাপড় দিয়ে বাঁধা হয়েছিল সেই কাপড় ও রুনির পরনের টি-শার্ট পাঠানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাবরেটরিতে।
এর আগে মামলার ৫৫তম দিনে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগার থেকে ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) পরীক্ষার রিপোর্টগুলো পাওয়া গেছে। সে রিপোর্ট ও অপরাধচিত্রের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দুজন পুরুষের ডিএনএর পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃত আট আসামি, নিহত দুজন এবং স্বজন মিলে ২১ জনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল। এসব পরীক্ষায় সন্দেহভাজন খুনি শনাক্ত হয়নি। এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আটজনের মধ্যে পাঁচজন রফিকুল, বকুল, সাইদ, মিন্টু ও কামরুল হাসান ওরফে অরুণ মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র রায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সাগর-রুনি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আছেন নিহতদের পারিবারিক বন্ধু তানভীর এবং বাসার নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পাল ও হুমায়ূন কবীর। এদের মধ্যে তানভীর, মিন্টু ও পলাশ হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।
ঢিলেঢালাভাবে তদন্ত চলায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতদের পরিবার। মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা তো আদালতকে একটা কিছু জানাবেন। কিন্তু কোনো ফলোআপই জানাচ্ছেন না। বরং বারবার সময় নিচ্ছেন, সর্বশেষ গতকালও সময় চেয়েছেন। আদালতও যেখানে বারবার সময় দিচ্ছেন, সেখানে আমাদের আর কি বলার আছে! সন্দেহভাজন আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র রায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে কে জড়িত? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটি আমার জানা নেই। তবে এ ঘটনায় ছয়জন কারাগারে রয়েছে। চলতি বছরে প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব কিনা, তাও নিশ্চিত নন তিনি।
সূত্র জানায়, গত বছরের মে মাসে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজেই মামলাটি সম্পর্কে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল নন। তিনি মামলাটি মাত্র বুঝতে চেষ্টা করছেন। খন্দকার শফিকুল আলমের আগে মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন র‌্যাবের আরেকজন এএসপি মহিউদ্দিন আহমেদ। তার আমলেও কোনো অগ্রগতি ছিল না।
৭০ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের দিন অর্থাৎ গত ১১ ন?ভেম্বর এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ ক?রেন হাইকোর্ট। মামলার আইও র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার শফিকুল আলম সে?দিন উচ্চ আদালতকে জানান, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু (সূত্র) পাওয়া যায়নি। চারটি ডিএনএ প্রতিবেদনের মধ্যে দুটি মিলেছে। এ দুটিতে আসামিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে সেগুলো ফের যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরের দিন রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা। ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত ভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর। তবে এর দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় র‌্যাবকে। সেই থেকে আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।
তবে এর আগে দাখিল করা প্রতিবেদনে ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার কথা বলা হলেও চুরি যাওয়া ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ হত্যাকাণ্ডের ব্যবহৃত ছুরি, বঁটি, ছুরির বাঁট, সাগর-রুনির পরনের কাপড়, সাগরের হাত-পা যে কাপড় দিয়ে বাঁধা হয়েছিল সেই কাপড় ও রুনির পরনের টি-শার্ট পাঠানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাবরেটরিতে।
এর আগে মামলার ৫৫তম দিনে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগার থেকে ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) পরীক্ষার রিপোর্টগুলো পাওয়া গেছে। সে রিপোর্ট ও অপরাধচিত্রের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দুজন পুরুষের ডিএনএর পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃত আট আসামি, নিহত দুজন এবং স্বজন মিলে ২১ জনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল। এসব পরীক্ষায় সন্দেহভাজন খুনি শনাক্ত হয়নি। এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আটজনের মধ্যে পাঁচজন রফিকুল, বকুল, সাইদ, মিন্টু ও কামরুল হাসান ওরফে অরুণ মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র রায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সাগর-রুনি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আছেন নিহতদের পারিবারিক বন্ধু তানভীর এবং বাসার নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পাল ও হুমায়ূন কবীর। এদের মধ্যে তানভীর, মিন্টু ও পলাশ হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।
ঢিলেঢালাভাবে তদন্ত চলায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতদের পরিবার। মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা তো আদালতকে একটা কিছু জানাবেন। কিন্তু কোনো ফলোআপই জানাচ্ছেন না। বরং বারবার সময় নিচ্ছেন, সর্বশেষ গতকালও সময় চেয়েছেন। আদালতও যেখানে বারবার সময় দিচ্ছেন, সেখানে আমাদের আর কি বলার আছে!

এসএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে