তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবি

0
21


তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবি

ভারতের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো এবং তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪ নদীর পানির নায্য হিস্যা আদায়ের দাবি জানিয়েছে ‘নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ রক্ষা আন্দোলন।
৩০টি রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, নদী ও পানি বিশেষজ্ঞসহ ব্যক্তিবর্গ প্রাথমিকভাবে এই ‘নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ রক্ষা আন্দোলন’ এর সাথে যুক্ত হয়ে এই আন্দোলনের সংস্থা গড়ে তুলেছেন।

বৃহষ্পতিবার (১২ মার্চ) ‘নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ রক্ষা আন্দোলন’ এর পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‘নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ রক্ষা আন্দোলন’এর সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, ডাক্তার জাফরউল্লা চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, নদী ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. এনামুল হক, কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু। সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, ডাকসু ভিপি নূরুল হক নূর, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, কমিউনিস্ট লীগের অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বিশিষ্ট রাজনীতিক শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বাংলাদেশকে ভারত বঞ্চিত করছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের জনগণ চুপ করে বসে থাকতে পারে না। লক্ষ লক্ষ শহীদের জীবনদানের বিনিময়ে অর্জিত একটি দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা কতিপয় নেতা-নেত্রী বা দু-চারটি রাজনৈতিক দলের সংকীর্ণ স্বার্থবুদ্ধির কাছে আমরা বিসর্জন দিতে পারি না। এমতাবস্থায় আমাদের নদী পানিসহ সকল প্রকার ন্যায্য অধিকার আদায় এবং দেশের সার্বভৌমত্ব হরণের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক শক্তি ও শাসক শ্রেণির বাইরে সকল দল মত নির্বিশেষে যারা ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী তাদেরকে সাথে নিয়ে আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদীরা নদী-পানিসহ দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
খালেকুজ্জামান বলেন, আমাদের ৫৭ নদী বিদেশ থেকে এসেছে এর মধ্যে ৫৪টি ভারত হয়ে এসেছে। এসব নদী ভারতে উৎপত্তি নয়, কোনটা চীনে, কোনটা বার্মা, নেপালে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী একাধিক দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত নদী আন্তর্জাতিক নদী হিসেবে গণ্য হয়। ফলে উজানের দেশ ভাটির দেশকে বঞ্চিত করে একতরফা পানি প্রত্যাহার করে ভারত আইন লংঘন করছে।
তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে মনমোহন সিং, নরেন্দ্র মোদি উভয়ে আমাদেরকে ছেলে ভোলানো আশ্বাস দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছে। তারা বলছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তিস্তার পানি চুক্তিতে রাজী হচ্ছে না। এটা যে খুবই খোড়া যুক্তি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে তারা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা দিতে চায় না। কারণ ভারতের সংবিধানের ২৫৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে কোন দেশের সাথে চুক্তি করতে কেন্দ্রীয় সরকারই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
তিনি বলেন, ভারতকে অনেকে বন্ধু রাষ্ট্র বলেন, বন্ধু রাষ্ট্রের নমুনা কাটা তারের বেড়া, সীমান্তে হত্যা, উপকূলে রাডার স্থাপন, বাণিজ্য ঘাটতি দূর না করা। তিনি ভারত কর্তৃক পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি করেন ।

ডিসি



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে