নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত দু-একদিনের মধ্যে: সিইসি

0
18


নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত দু-একদিনের মধ্যে: সিইসি

চট্টগ্রাম সিটি ও পাঁচ উপনির্বাচন

করোনা ভাইরাসের কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং ৫ আসনে উপ-নির্বাচন হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আগামী দুই-একদিন পর নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর কেক কেটে নির্বাচন ভবন থেকে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান সিইসি।

আগামী ২১ মার্চ ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে উপনির্বাচন এবং ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ উপনির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং ভারতও তাদের সব নির্বাচন বাতিল করে দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের নির্বাচন বন্ধ হবে কি না?

সিইসি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এগুলোর বাইরে আর কোনো নির্বাচন করা হবে। এখন পর্যন্ত আমরা নির্বাচন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিইনি। আরো দুই-একটা দিন দেখি। কারণ, নির্বাচনের তো ব্যাপক প্রস্তুতি শেষের দিকে। প্রার্থীরা বলেছে, তারা সাবধানে নির্বাচনি প্রচারণা করবে। কিন্তু নির্বাচন যেন বন্ধ না হয়ে যায়। তাদের অনুরোধ আছে। তারা যদি জনসমাগমের বিষয়টা এড়িয়ে চলে। আমরা বলেছি, যেন বিকল্পভাবে তারা ভোটারদের কাছে ভোট চাবে জনসমাগম না করে। তাই যদি হয়, তাহলে কোনো অসুবিধা নাই। কারণ আমাদের তো জীবনের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। করোনার কারণে কোথাও কোথাও সীমিত হয়েছে। সীমিত আকারেই করব।

এরপরে আসলে অন্য কোনো নির্বাচন করা হবে বলেও জানান সিইসি। নূরুল হুদা বলেন, ২১ তারিখের নির্বাচন করার চিন্তা আছে এখনো। যদি পরিস্থিতি একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন অবশ্যই আমরা বিবেচনা করব। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা চাচ্ছি, নির্বাচনটা হয়ে যাক।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো বিবেচনা করা হয় নাই। এটা নিয়েও আমরা চিন্তা করব। পরিস্থিতি আরেকটু দেখি।

ভোটের দিন তো ভোটারদের উপস্থিতি থাকবে। ভোটের মাঠে অনেকে থাকবে। পশ্চিমবঙ্গে ভোট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ভোট বড় না আমাদের জীবন বড়?
জবাবে নূরুল হুদা বলেন, করোনা কতখানি অ্যাফেক্ট (আক্রান্ত) করবে, সেটা আমরা বিশ্লেষণ করতে চাচ্ছি। আমি তো চলাচল করি, হাটে যাই, বাজারে যাই, নামাজে যাই, অফিসে যাই- এগুলো তো বন্ধ হয় নাই। তবুও আমরা আরো একটা-দুইটা দিন দেখব। তখন সবগুলো নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

কেক কাটার আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে আমরা এখানে সমবেত হয়েছি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার কারণে সকলে মিলে সমাবেত হতে পারিনি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল যে, সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে এ কেক কাটব, আলোচনা সভায় মিলিতি হব, মিলাত মাহফিল করব। এগুলো সবই পরিবেশ-পরিস্থিতিগত কারণে বাতিল করতে হয়েছে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, মো. রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম। এছাড়া ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলামসহ যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

নূরুল হুদা বলেন, ‘এ পর্যায়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করব যে, ১০০ বছর আগে এই ব্যক্তির জন্ম না হলে দেশ স্বাধীন হতো না। আমাদের পরিচিতি থাকত না। সেই মহান ব্যক্তির জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সমবেত হতে পারায় নিজেদের গৌরবান্বিত মনে করছি। যখন আরেকটি শতবর্ষ উদযাপন হবে, তখন সেটা আমাদের দ্বারা সেটা সম্ভব হবে না। যেন এভাবেই শতবর্ষ উদযাপন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেই প্রত্যাশা রাখি। এই মহান ব্যক্তিকে আল্লাহতালা বেহেস্তবাসী করুক। জান্নাতের সর্বোত্তম জায়গায় তার স্থান করে দিক।’

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে