পোশাক কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত বিজিএমইএর

0
19


পোশাক কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত বিজিএমইএর


করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের অফিস-আদালত ছুটির সাথে সমন্বয় করে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখতে মালিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছে বিজিএমইএ। বৃহস্পতিবার (২৬মার্চ) রাতে এক বার্তায় কারখানা মালিকদের এ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি রুবানা হক বলেন, মহান স্বাধীনতা এবং জাতীয় দিবস উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবাইকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সবার সুরক্ষার এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য কিছু সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরন করে সর্ববৃহৎ শিল্প হিসেবে আমাদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত। এমতাবসথায়ে কারখানা বন্ধ দেয়া বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও অধিক শ্রমঘন গার্মেন্টস কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। পোশাক কারখানা বন্ধ করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি মালিকদের ওপর ছেড়ে দেয় সরকার।

সরকারের সাধারণ ছুটির সময়ে কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে রুবানা হক বলেন, তবে কেউ চাইলে কারখানা খোলা রাখতে পারবেন। পিপিই ও মাস্ক তৈরি হচ্ছে এমন কারখানাগুলো খোলা থাকবে বলে জানা গেছে। খোলা রাখা কারখানাগুলোকে শ্রমিকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো একের পর এক লকডাউন ঘোষণা করছে। বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করছে পোশাকের ব্র্যান্ডগুলো। এ পরিস্থিতিতে ভোক্তা চাহিদায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। কিন্তু বাজার চাহিদার এ পরিস্থিতিতে নতুন ক্রয়াদেশ দিচ্ছে না ক্রেতারা। এরই মধ্যে দেয়া ক্রয়াদেশগুলোর পরিমাণ কমাচ্ছে। চলমান ক্রয়াদেশগুলোর উৎপাদন থেকে বিরত থাকতে বলছে ক্রেতারা। আবার কর্মক্ষেত্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকিতেও আছেন শ্রমিকরা।

এদিকে, করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ৫ হাজার টাকার প্রণোদানা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্যই কেবল এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। গত বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক। বিজিএমইএ তথ্যমতে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৯৫৯ কারখানায় প্রায় ২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়েছে।

এসএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে