করোনায় থেমে নেই রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ

0
28


করোনায় থেমে নেই রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ

করোনা ভাইরাসের বিপর্যয়ে দেশের নির্মাণাধীন একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে না। এসব প্রকল্পের মালামাল সংগ্রহ, কারিগরি সহযোগিতায় চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নিতে হচ্ছে। বিদেশি প্রকৌশলীরাও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনার বিপর্যয়ের কারণে নির্মাণে শতভাগ সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ থেমে নেই। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এই মুহূর্তে জ্বালানি বিভাগের কোনো প্রকল্পে বিদেশিরা আসতে পারবে না। তারপরও জরুরি প্রয়োজনে যদি কেউ আসে তাহলে তাকে অবশ্যই কাজে যোগদানের আগে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বড় প্রকল্পগুলোতে অনেক বিদেশি কর্মী কাজ করছে। এদের মধ্যে চীনা কর্মীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পায়রা বিদ্যুৎ প্রকল্পে ধীর গতিতে কাজ চলছে। আরো কিছু প্রকল্পেও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক চীনা কর্মী কাজ করছেন। এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটটি ইতোমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে চীন থেকে সব কর্মী না আসায় এখনো এই ইউনিটটি ‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ চালু করা সম্ভব হয়নি। চীনা কর্মীরা না আসায় একইভাবে গতি হারাচ্ছে প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে কাজের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজের এ অবস্থার কারণে অনেক কোম্পানি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের কাছে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে তারা তাদের প্রকল্পের বিদেশি কর্মীদের বাংলাদেশে আসতে অনুমতি দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু জ¦ালানি বিভাগ করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতার বিষয়টি চিন্তা করে অবাধে বিদেশি কর্মীদের আসার অনুমতি দিচ্ছে না। তবে প্রকল্পের জরুরি প্রয়োজনে কোনো বিদেশি কর্মী বাংলাদেশে আসলে তাকে অনুমতি দেয়া হবে। আর অবশ্যই তাকে এখানে আসার পর কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, বেশ কিছু বিদ্যুৎ প্রকল্পে করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে। ইতোমধ্যেই দুটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রমে চরমভাবে ব্যাঘাত ঘটেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন ‘টেকনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্স প্রজেক্ট ফর ইনস্টিটিউশনাল স্ট্রেংদেনিং অব রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন প্রোগ্রাম’ এবং ‘মিরসরাই ১৫০ মেগাওয়াট ডুয়েল বিদ্যুৎকেন্দ্র’ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজে চীনের সহযোগিতা রয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে অর্থাৎ আগামী জুন মাসের মধ্যে এই দুই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য অনেক মালামাল চীন থেকে আসার কথা। কিন্তু এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেসব মালামাল আনা সম্ভব হচ্ছে না। আবার প্রকল্পের কারিগরি সহযোগিতার দায়িত্বে থাকা চীনের প্রকৌশলীদের অনুপস্থিতির কারণে তাদের সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে না। এসব কারণে চলতি অর্থবছরের মধ্যে এই দুই প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের উপপ্রধান (পরিকল্পনা) ড. শাহ মো. হেলাল উদ্দীন জানান, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৯৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এসব প্রকল্পের মধ্যে ১৬টি প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে ২টি প্রকল্পের কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ ধরনের প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে সে পরিকল্পনা পরে ঠিক করা হবে।

এসআর



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে