ড্রামে করেই আবারো ঘরে ফেরা

0
61


ড্রামে করেই আবারো ঘরে ফেরা

চাকরি বাঁচাতে রাজধানীর দিকে ছুটে আসছিল জনস্রোত। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শরণার্থীদের মতো দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে তারা হাঁটছিল দলে দলে। করোনা মহামারির মহাবিপদে গোটা দেশ যখন লকডাউন ঠিক এই দৃশ্য চমকে দিয়েছিল সবাইকে। হৈচৈ পড়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এমন সমালোচনার ঝড় সামাল দিতেই ছুটি বাড়ানো হয় পোশাক কারাখানায়। আর তাতেই বিপদে পড়তে হয় অসংখ্য পোশাক শ্রমিককে।

দলে দলে শ্রমিকদের রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসার বিশেষ চিত্র আবার সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বহু শ্রমিককে দেখা গেছে পায়ে হেঁটে ও ভেঙে ভেঙে ছোট ছোট গাড়িতে করে আসতে। তাদের মধ্যে অনেকে পিক-আপে মাছের ড্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থল ফিরেছিলেন।

উৎকট আঁশটে গন্ধে ভরা মাছের ড্রামে করে ঢাকায় ফেরার সেই চিত্র ঘুরছে এখন ফেসবুকে। নিদারুণ এই চিত্র দেখে অনেকে আবেগে আপ্লুত হয়ে গেছেন। ভাইরাল হওয়া ছবিতে নানা মন্তব্য ছুঁড়ে দিচ্ছেন। সমালোচনা করছেন পোশাক কারাখানার মালিকদের। যে শ্রমিকরা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে অসামান্য অবদান রাখছে তাদের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা চলতে পারে না।

প্রতি ড্রামে একজন। কেউ ঘুমিয়েও পড়েছেন ক্লান্তিতে। যতই আঁশটে গন্ধ থাকুক। ফিরতেই হবে জীবনের টানে।

তবে সবচেয়ে বড় ভয়টা হলো- চাকরি বাঁচাতে শ্রমিকদের এভাবে কারাখানায় টেনে আনার ঘটনা করোনার সংক্রমণ ঝুঁকিকে কতটা বাড়িয়ে দিয়েছে তা অকল্পনীয়। যেখানে লকডাউন করা হয়েছে গোটা দেশ। আর ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য রাতদিন আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী চেষ্টা করে যাচ্ছে সেখানে এভাবে রাজধানীর দিকে জনস্রোত কতটা ভয়াবহতা ছড়িয়েছে তা বলাই বাহুল্য।

ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা গেছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ যাওয়ার মতো মাছের খালি ড্রামে করে যেভাবে তার ঢাকায় এসেছিলেন ঠিক একইভাবে তারা বাড়ি ফিরছেন। পাটুরিয়া ফেরিঘাটে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের শ্রমিকরা রাজধানীতে পৌঁছার পর ছুটির খবর পেয়ে ফের নিরূপায় হয়ে পড়ে। তারা একইভাবে মাছের খালি ড্রামে করে বাড়ির পথ ধরে।

তারা মাছ বা মৎস জাতীয় কোনো প্রাণী নয়, তারা মানুষ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে, কে বলতে পারবেন, যে ধেয়ে আসা এসব শ্রমিক করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যায়নি কিংবা রাজধানী থেকে করোনা নিয়ে বাড়ির পথ ধরেনি। কোনোভাবেই নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয়। একদিকে অমানবিক এক পরিস্থিতি, আরেকদিকে করোনা মহামারির আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া।

এনএম



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে