নিজে খাবো না-কি ঘোড়া কে খাওয়াবো

0
25


নিজে খাবো না-কি ঘোড়া কে খাওয়াবো

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানী ঢাকা এখন কার্যত লকডাউনে। বন্ধ রয়েছে সব যানবাহন। আর এ সময় গোড়াবাহী টমটম রাস্তায় বের না করতে পেরে মহাসমস্যায় পড়েছেন রাজধানীর প্রায় ৩৫ জন টমটম মালিক বা চালক। এখন কোনো আয় নেই, পরিবারের মুখে অন্ন যোগানো যখন কঠিন অবস্থা সেখানে ঘোড়াকে কি খাওয়াবেন ভেবে পাচ্ছেন না তারা।

এ বিষয়ে আয়শা টমটমের মালিক রজ্জব হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, করোনার কারণে ঢাকায় সব গাড়িবন্ধ। আমরা গুলিস্থান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত যাত্রী বহন করতাম। এখন এ লকডাউনে কোনো যাত্রীও নেই আমাদের। এদিকে টমটম বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। তাই এক টাকা আয়ও নেই। সে কারণে নিজের পরিবারের পেট চালিয়ে প্রতিটি টমটমে একজোড়া করে ঘোড়ার খাবার জোগার করাটা বেশ কঠিন হয়ে গেছে।

ঘোড়াকে পরিচর্যা করা হচ্ছে। ছবি: ভোরের কাগজ।

তিনি জানান, রাজধানীতে প্রায় ৩০-৩৫ টা টমটম চলাচল করে। এ ব্যবসার সঙ্গে প্রায় ১ দেড়’শ মানুষ সরাসরি জড়িত। তাদের পরিবারের অন্ন সংস্থান হতো এই ঘোড়া গাড়ি চালিয়ে। আগে প্রতিদিন সব খরচ বাঁচিয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আয় হতো। তা দিয়ে কোনো মতে ঘোড়ার খাবার সহ নিজ পরিবারের খরচ চলতো। এখন প্রায় ১৫-১৬ দিন ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে পারি নি। কিন্তু নিজে খাই না খাই এ ৭০-৭২ টা পশুর খাবার তো দিতে হবে। অবলা জাত, খাবার না পেলে তো অসুস্থ হয়ে মরে যাবে। অনেকে মানুষের জন্য ত্রাণ দিচ্ছেন, কিন্তু ঘোড়াদের খাবার কিনবো কি দিয়ে? প্রতিদিন এক জোড়া ঘোড়ার খাবার যোগার করতে লাগে প্রায় ৫-৭ শ টাকা। তাই মহা সমস্যায় পড়েছেন বলে জানান তিনটি টি টমটমের মালিক অর্থাৎ ৬টি ঘোড়ার মালিক রজ্জব দেওয়ান।

তিনি বলেন, তাছাড়া ঘোড়া গাড়ির সঙ্গে হেলপার ড্রাইভারসহ যে দেড় থেকে দু’শ লোক জড়িত তাদের পরিবার প্রায় অনাহারে রয়েছে। এ অবস্থায় নিজের সন্তান সন্ততির মুখেই খাবার জোগাতেই পারছি না ঘোড়ার খাবার যোগাব কি করে। ঘোড়ার খাবার যোগাতে কোনো স্বহৃদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা কামনা করেছেন টমটম মালিকরা।

এমএইচ



একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে